রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে (৪৪) হত্যার নির্দেশ দেন দীলিপ ওরফে বিনাশ নামের এক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’। দেশের বাইরে থেকে তিনি এ নির্দেশ দেন। আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধের কারণেই মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়।
চাঁদাবাজি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
তিনি আরও জানান, এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে। ডিবি প্রধান বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর ৮ জানুয়ারি তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১১ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সর্বশেষ শুক্রবার নরসিংদী থেকে আরেকজন কথিত শুটার রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিদের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী দীলিপের সম্পর্ক রয়েছে বলছে ডিবি। তাঁদের মধ্যে একজন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও ডিবি সংবাদ সম্মেলনে জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, মুছাব্বিরকে গুলি করেন দুজন। এর মধ্যে একজন জিন্নাত, আরেকজন রহিম। জিন্নাতকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুজন টাকার বিনিময়ে গুলি করেছেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁদের দেখা গেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন ও ১২টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই; চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।









