বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাভারের নিউমার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থী শ্রাবণ গাজী (২০) হত্যার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান লিটন, অর্থ সম্পাদক তৌহিদুল আলম তাকিদ, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন ও কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) নিহত শ্রাবণ গাজীর পিতা মো. মান্নান গাজী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। নিহত শ্রাবণ গাজী ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার ডেইরিফার্ম এলাকার বাসিন্দা।
এই মামলায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে প্রধান করে অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাভারে ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক দুই এমপি ডাক্তার এনামুর রহমান ও সাইফুল আলম।
মামলার এজাহারে নিহত শ্রাবণ গাজীর পিতা মান্নান গাজী উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ডস্থ নিউ মার্কেটের সামনে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের ওপরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শ্রাবণ গাজী ২০ ছাত্রদের যৌক্তিক দাবীর পক্ষে একাত্বতা পোষণ করে আন্দোলন করতে থাকাবস্থায় আওয়ামী অঙ্গ সংঘঠনের নেতাকর্মীদের আগ্নেয়াস্ত্রের এলোপাথাড়ি গুলিতে মাথার বিভিন্ন অংশে গুলি বিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শ্রাবণ গাজী মালয়েশিয়ার টুংকু আব্দুল রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক পর্যায়ে অধ্যায়নরত ছিলেন। এজাহারে হত্যা ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান নিহতের পিতা মান্নান গাজী।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শ্রাবণ গাজীর বাবা মো. মান্নান গাজী জ্ঞাত ৮৫ জনসহ আরও অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









