২০১৬ সাল থেকে আইপিএলের নিয়মিত মুখ মোস্তাফিজুর রহমান। খেলেছেন বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। চলতি আসরে মাঠ মাতাচ্ছেন চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে। মহেন্দ্র সিং ধোনিদের দলে খেলার স্বপ্ন নাকি আগেই দেখতেন টাইগার পেসার। ফিজ নিজেই জানিয়েছেন এমনটা।
চেন্নাইয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে নিজের বেড়ে ওঠার গল্প, নিলাম থেকে চেন্নাইয়ের ডাক পাওয়ার পরের অনুভূতি, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের সঙ্গে আলোচনা ও দলের অভ্যন্তরীণ আবহ নিয়ে কথা বলেছেন তারকা পেসার।
ভাইদের অনুপ্রেরণাতেই ক্রিকেটার হয়ে ওঠা মোস্তাফিজের। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বেড়ে ওঠা ফিজ বলেছেন সেই গল্পও। ‘আমরা চার ভাই। সবাই প্রায় ক্রিকেট পাগল। ভাই এলাকার বিভিন্ন দলের সাথে খেলা নিত। বাইরে থেকে হায়ার করা খেলোয়াড়রা আসতো। আমি তখন ছোট ছিলাম, তাদের আমরা বোলিং করতাম। একজন বড়ভাই ছিল, সে আমার ভাইকে বলছে- তোর ভাই তো ভালো বোলিং করে। ওখান থেকেই শুরু হয় পথচলা।
কাটার মাস্টার খ্যাত মোস্তাফিজ জানিয়েছেন তার কাটার বোলিং শুরুর নেপথ্যের গল্প। তবে এমন ডেলিভারিকে ন্যাচারালই মানছেন টাইগার পেসার। বলেছেন, ‘এটা আমার ন্যাচারাল। কেউ শেখায়নি। এক সময় আমি জাতীয় দলে নেট বোলিং করছিলাম তখন বিজয় ভাই আমাকে বললো- তুই কি স্লোয়ার মারতে পারিস না? তখন আমি খুব জোরে বোলিং করতাম। তো এটা শোনার পর আমি স্লোয়ার করার চেষ্টা করি। তখন দেখি, ভালোই ঘুরছে। সেখান থেকেই আমার স্লোয়ার-কাটার করা।’
আইপিএলে অভিষেকের পরই চেন্নাইয়ের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখতেন মোস্তাফিজ। বলেছেন, ‘চেন্নাইয়ের হয়ে আমার প্রথমবার খেলতে আসা। ২০১৬ সালে আইপিএলে আমার অভিষেক হয়, তবে সবসময় স্বপ্ন ছিল এই ফ্র্যাঞ্চাইজির (চেন্নাই) হয়ে খেলা। যখন চেন্নাই টিম ম্যানেজমেন্টের কল আসে, এরপর থেকে সারারাত আর ঘুম আসতেছিল না। একরকম উত্তেজনা কাজ করছিল। কিন্তু পরদিন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ছিল, তাই ঘণ্টাখানেকের মতো ঘুমাই, এরপর থেকে শুধু মেসেজ আসতেছিল। রাত দেড়টার মতো বাজে তখন, সবাই আমাকে অভিনন্দন জানাতে থাকে।’
চেন্নাইয়ের ক্রিকেটারদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ধোনি-ব্রাভোদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও ভিডিওতে কথা বলেছেন ফিজ। তার ভাষ্য, ‘এখানকার সবাই খুব আন্তরিক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। জাতীয় দলে যেমন সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, তেমনি এখানেও শুরু থেকে আমার অস্বস্তি লাগেনি। এখানে বড় ভূমিকা ছিল মাহি (মহেন্দ্র সিং ধোনি) ভাইয়ের, ডিজে ব্রাভো (চেন্নাইয়ের বোলিং কোচ) এবং অন্যান্য কোচিং স্টাফের। ডেথ ওভারে ফিল্ডিং সেট-আপ থেকে শুরু করে ছোট ছোট কিছু বিষয় জানায়, সেগুলো আমার ডেথ ওভারের বোলিংয়ে খুব ভালো কাজে লাগে।’
‘উনার (ধোনি) সঙ্গে বেশিরভাগ বোলিং নিয়েই কথা হয়, তবে যা হয় মাঠেই। এর বাইরে তেমন কথা হয় না। মাহি ভাই এসেই বলেন যে এটা করলে ভালো হয়। আইপিএলে খেললে একজন ক্রিকেটার অনেক আত্মবিশ্বাস পায়, পুরো টুর্নামেন্টে আন্তর্জাতিক সব তারকা ক্রিকেটাররা থাকে। এখানে যদি আমি সফল হই, যেকোনো জায়গায় সফল হওয়াটা সহজ হয়।’
জাতীয় দলের হয়ে খেলা ফিজের কাছে বাড়তি মর্যাদার। পাশাপাশি ডেথ ওভারে বোলিংয়ের কৌশল নির্ধারণ নিয়েও কথা বলেছেন কাটার মাস্টার, ‘যখন আমি বাংলাদেশের হয়ে খেলি তখন বাড়তি প্রেরণা কাজ করে। আর বিশেষ করে যখন ভারত, পাকিস্তানসহ অন্য বড় দলের সঙ্গে খেলি, যেখানে হাইলাইটস হয় বেশি, সবমিলিয়ে বড় দলের সঙ্গে খেলতে সবসময় ভালো লাগে। এসব ম্যাচে দর্শক থাকে অনেক বেশি। খেলা দেখি কম, তবে খেলতে পছন্দ করি। তবে টি-টুয়েন্টির শেষ ৪-৫ ওভার দেখা হয়, দেখি ব্যাটাররা কীভাবে খেলে এবং ওই পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিত।’









