মরক্কোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা ২হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ২হাজার ১’শ জনের বেশি। এখনো ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছেন অনেকে, চলছে উদ্ধার কাজ। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমের মারাকেশ অঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এবার মধ্যরাতে লণ্ডভণ্ড হলো উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। প্রায় ২০ সেকেন্ড স্থায়ী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশটির উত্তরাঞ্চলের শহর রাবাত থেকে দক্ষিণের সিদি ইফনি পর্যন্ত। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষিত প্রাচীন শহর মারাকেশ। বেশি মানুষের মৃত্যুও হয়েছে এ শহরে।
সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা-ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিলো মরক্কোর হাই অ্যাটলাস পর্বতমালার ৭১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে। প্রথম ভূমিকম্পের ১৯ মিনিট পর একই এলাকায় ৪ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। এরপর আরেকদফা কম্পন। ফের ভূমিকম্পের আশঙ্কায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন আতঙ্কিত মানুষেরা।
প্রাণঘাতী এ ভূমিকম্পের ঘটনায় মরক্কোর প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে সমবেদনা। এছাড়াও মারাকেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ক্ষতির তালিকা করে সেগুলো মেরামতে মরক্কোকে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার।
কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পড়েও দুর্যোগের সময় মরক্কোতে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সুবিধার্থে আকাশসীমা খুলে দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ আলজেরিয়া। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলার পর ২০২১ সালে আলজেরিয়া মরক্কোর সাথে সব ধরণের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
গত ৬ দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী এ ভূমিকম্পের পর মরক্কোতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ২০০৪ সালে দেশটির আল হোসেইমা অঞ্চলে ভূমিকম্পে ৬শ ২৮ জনের প্রাণহানি হয়। আর ১৯৬০ সালে আগাদির অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মারা গিয়েছিল অন্তত ১২ হাজার মানুষ। অ্যাটলাস পর্বতমালার মধ্যে অনেক দুর্গম গ্রাম রয়েছে যেখানে পৌঁছানো যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। তাই এবারের ভূমিকম্পে সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিতভাবে জানতে বেশ কয়েকদিন লেগে যাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







