পূর্ব ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর (ডিআরসি) দক্ষিণ কিভু প্রদেশে রুয়ান্ডা সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩–এর নতুন আক্রমণে ৪০০ জনেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগত শহর উভিরার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দখলে নিয়েছে এম২৩। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় রুয়ান্ডা বিশেষ বাহিনী ও বিদেশি ভাড়াটে সৈন্যদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে।
দক্ষিণ কিভু সরকারের মুখপাত্র জানান, উভিরা ও প্রাদেশিক রাজধানী বুকাভুর মধ্যবর্তী অঞ্চলে গুলি, গ্রেনেড ও বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪১৩ জন বেসামরিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে অনেক নারী, শিশু ও তরুণ রয়েছে। সরকার অভিযোগ করেছে, রুয়ান্ডা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সরাসরি লঙ্ঘন করছে।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে কঙ্গো ও রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তি হয়। তবে এম২৩ চুক্তির অংশ না থাকায় এবং যুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন দেখানোয় চুক্তিটি এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এম২৩ এর হামলার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ বেসামরিক লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ উভয়ই রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে এম২৩–কে অস্ত্র ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ করেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, এম২৩–এর যোদ্ধার সংখ্যা এখন প্রায় ৬ হাজার ৫শ। যদিও রুয়ান্ডা অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তারা গত বছর স্বীকার করে যে, পূর্ব ডিআরসিতে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সেনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিআরসিতে প্রায় ৪ হাজার রুয়ান্ডার সৈন্য অবস্থান করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পূর্ব ডিআরসির “চলমান সহিংসতা” নিয়ে তারা গভীর উদ্বিগ্ন। কিনশাসার মার্কিন দূতাবাস এম২৩–এর সব আক্রমণ বন্ধ ও রুয়ান্ডা বাহিনীর অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
রুয়ান্ডা পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, কঙ্গোই যুদ্ধবিরতি মানছে না এবং এম২৩–এর দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধারে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
রুয়ান্ডা সীমান্ত ঘেঁষা খনিজসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যার মধ্যে এম২৩ সবচেয়ে সক্রিয়। দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাতে আজ পর্যন্ত সাত মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত, যা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উভিরায় পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। মাঝে মাঝে গুলির শব্দ শোনা গেলেও বাসিন্দারা খাবার ও নিরাপত্তার খোঁজে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন।
এক স্থানীয় শিক্ষক বলেন, সরকার বলেছিল উভিরা কখনই সংঘাতের মধ্যে পড়বে না। কিন্তু আজ আমরা সম্পূর্ণ বিপরীত বাস্তবতা দেখছি।









