মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাইরে অস্ট্রেলিয়াতে এবার ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে যাচ্ছে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মর্ডানা। বছরে প্রায় ১০০ মিলিয়নেরও বেশি এমআরএনএ প্রযুক্তির ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষ্যে অষ্ট্রেলিয়ায় ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্রটি বানাতে চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে।
রয়টার্স অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ চুক্তিটি এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে এমআরএনএ ভ্যাকসিন উৎপাদনকারীর দেয়া দ্বিতীয় কোন প্রতিশ্রুতি। এরফলে বিশ্বজুড়ে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও প্রস্তুত করা যাবে। কোভিডের পাশাপাশি ভবিষ্যত মহামারির হুমকি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট স্কট মরিসন রয়টার্সকে জানান, ভিক্টোরিয়া রাজ্যে নির্মিত এ উৎপাদন কেন্দ্রের মাধ্যমে বছরে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি এমআরএনএ ভ্যাকসিন উৎপাদন করা যাবে বলে আশাবাদী। ২০২৪ সালে এর কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
তবে আর্থিক বিষয়ে মরিসন সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানান নি। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমের ধারণা, এটি প্রায় ২ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ( ১.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) একটি আর্থিক চুক্তি।
এবছরের অক্টোবরে মর্ডানা জানিয়েছিল, তারা আফ্রিকাতে ৫০০ মিলিয়নেরও অধিক ভ্যাকসিন ডোজ উৎপাদন করতে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে। এ প্রকল্পে কোভিড ভ্যাকসিনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মডার্না, ফাইজার ও বায়োটেক যে কোভিড ভ্যাকসিন প্রস্তুত করেছিল তাতে এমআরএনএ ব্যবহার করেছিল। এমআরএনএ’কে রাইবোনিউক্লিক এসিডের বার্তা বাহক বলা হয়। এটি এমন এক ধরনের প্রযুক্তি যা সেলকে শেখায় কীভাবে একটি প্রোটিন তৈরি করা যায়। পরবর্তীতে এই প্রোটিন ক্ষতিকর সেলকে দূর করতে সাড়া দেয়। এই প্রযুক্তিটি মৌসুমি ফ্লু ও শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার জন্য প্রস্তুতকৃত ভ্যাকসিনে ব্যবহার করা যায়।
বায়োটেক ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বছরের মে মাসে তারা সিঙ্গাপুরে নতুন একটি উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করবে। যার মাধ্যমে বছরে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি এমআরএনএ ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।







