শরীরের পাশাপাশি সুস্থ মনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চারপাশের নানা জটিলতায় মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পরেন অনেকে। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুক্রবার (২০ অক্টোবর) দিনভর হয়ে গেল প্রথমবারের মতো ‘মন উৎসব’!
শুক্রবার সকাল থেকেই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘মন উৎসব’কে ঘিরে ছিলো সাধারণ দর্শনার্থীদের সতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। বিভিন্ন স্টলে মন ভালো রাখার নানা কৌশল নিয়ে ছিলো বিচিত্র সব আয়োজন। তবে উৎসবটির সফল সমাপ্তি ঘটে সন্ধ্যায় দারুণ এক কনাসার্টের মাধ্যমে!
পারফর্মারদের সুরে কথায় সত্যিকার অর্থেই ‘সুস্থ সুন্দর মন’ নিয়ে ঘরে ফিরেছেন দর্শনার্থী তরুণ-তরুণীরা। এদিন ‘মন উৎসব’ এর অন্যতম আকর্ষণ ছিলো কনসার্ট। যা দেখতে বিকাল থেকেই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ভিড় করে শত শত তরুণ-তরুণী। এদিন সন্ধ্যার পর নিজের দল ‘রক্স’ নিয়ে মঞ্চে উঠেন শিল্পী রোকসানা আমিন।
শুরুতেই রোকসানা গেয়ে শোনান তার লেখা ও সুর করা ‘সেই পাখিটা’ গানটি। তার আগে ব্যাখ্যা করেন করোনার ঘরবন্দি সময়ে কী দহনের মধ্য দিয়ে গানটির কথা ও সুর তিনি করতে পেরেছিলেন! গানটি মুগ্ধ করে উপস্থিত শ্রোতাদর্শকদের। এরপর হাসিবা আলী বর্ণার লেখা ও নিজের সুর করা গান ‘কার চোখে তুমি আছো’ গেয়ে শোনান রোকসানা। সবশেষ তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন অজবেন্দুপ্যারেসের ‘পারহেপস’ গানের অনুকরণে বাংলা গান!
রোকসানার পরেই মঞ্চে উঠে এই সময়ের তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী আহমেদ হাসান সানি। গানের পাশাপাশি মঞ্চে উঠে তিনি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন। নিরীহ মানুষের উপর হামলার নিন্দা জানান সানি।
মাইক্রোফোন হাতে সানি বলেন,“ফিলিস্তিনে যেটা ঘটছে এই মুহূর্তে, হার্ট ব্রেকিং। আমি শিল্পী হিসেবে বলতে চাই, যে সংকট তৈরী হয়েছে; এটার সমাধান যেন আসে শিগগির।” এসময় সানি ফিলিস্তিনের পতাকা বের করে তা উঁচিয়ে ধরে নিপিড়ীত মানুষের সাথে সংহতি জানান।
একটা পাতা, আমারে উড়াইয়া দিও, শহরের দুইটা গান এবং আমরা হয়তো’র মতো বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান গেয়ে শোনান সানি।
সানীর পরেই মঞ্চে উঠেন কনসার্টের প্রধান আকর্ষণ ‘জলের গান’। প্রায় দেড় ঘণ্টা গান গেয়ে উপস্থিত দর্শকদের আনন্দ দেন রাহুল আনন্দরা। গানের তালিকায় ছিলো জলের গানের একটি আনরিলিজ ট্র্যাকও!
তবে মঞ্চে উঠে গান শুরুর আগে রাহুল আনন্দও এই মুহূর্তে ফিলিস্তিনিদের উপর চলা নির্মমতার বিরুদ্ধে কথা বলেন। ‘মন উৎসব’ এর মতো বিশেষ এই আয়োজন নিয়েও নিজের ভালো লাগার কথা জানান এই মিউজিশিয়ান।
বাংলা একাডেমির মঞ্চে রাহুল আনন্দ বলেন,“কাউন্সিলিংটা তাদের বেশী দরকার, যারা রক্তপাত করছে। যুদ্ধের নামে ধ্বংসে লিপ্ত রয়েছে। গাজায় এই মুহূর্তে গণহত্যা চলছে। আমরা এখানে উৎসব করে মনকে ভালো রাখার চেষ্টা করছি। আমরা পৃথিবী জুড়ে শান্তি চাই।”
কিছুটা মজার করেই তিনি বলেন, “মন উৎসব যারা আয়োজন করছে, তারা আমার খুব নিকটজন। তাদের কাছে অনুরোধ করছি, বিশ্ব নেতারা যারা আছেন; তাদেরকে যদি এই মন উৎসবে এনে একটু কাউন্সিলিং করানো যায়, তাহলে হয়তো পৃথিবীজুড়ে শান্তি নেমে আসবে।”
এসময় ‘মন উৎসব’ আয়োজকদের উদ্দেশে প্রতি বছর এমন উৎসব আয়োজনেরও অনুরোধ করেন শিল্পী ও দর্শকরা।
ছবি: মিতুল আহমেদ







