হাসান ঝন্টু: বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র প্রভাব শুরু হয়েছে। রবিবার (১৪ মে ) ভোররাত থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও দমকা হাওয়া বইছে। সকাল ৯ থেকে মাঝে মাঝে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু পড়ছে। এখনো আকাশ ভারী হয়ে রয়েছে। মেঘে পুরো উপকূলজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
পায়রা নদী ও বিষখালী নদী শান্ত থাকলেও সাগর কিছুটা উত্তল রয়েছে। বরগুনা ৮ নং বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিস।
মোখা মোকাবেলায় বরগুনা জেলায় মোট ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় ১৮৫টি, আমতলীতে ১১১টি, তালতলীতে ৫৩টি, পাথরঘাটায় ১২৪টি, বেতাগীতে ১১৪টি এবং বামনায় ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫১০ জন আশ্রয় নিতে পারবেন।
দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলায় ২৯৪ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখা হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী জরুরি ত্রাণ বাবদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এবং ১৪২ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ ব্যায় বাবদ ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, ২ হাজার কম্বল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।এছাড়াও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি জরুরি সাড়াদান কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটি ( সিপিপি)’র স্বেচ্ছাসেবকরা ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা পৌঁছাতে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করছে।
বাংলাদেশ আবহওয়া অফিসের সর্বশেষ তথ্য মতে, রাত তিনটা নাগাদ ঘুর্ণিঝড় মোখার অগ্রভাগ উপকূলে ঢুকেছে। এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল তিনটার মধ্যে উপকূল অতিক্রম করবে মোখা।
উপকূলে এমন অবস্থায় মেঘ, পাশাপাশি প্রচণ্ড গরম বইছে। কখনো মেঘ, কখনো রোদ আবার তার সাথে প্রচণ্ড গরম আকাশ গম্ভীর। এমন অবস্থায় উপকূলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত প্রায়।
বরগুনা সদর উপজেলার ৬ নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমগীর ফকির বলেন বলেন, পানির চাপে ২০০৭ সালের সিডরে বেড়িবাঁধ ভেঙে অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছিল। এখন পানির যেভাবে চাপ দেখা যায় তাতে আমরা আতঙ্কিত।
বরগুনা পৌরসভার চরকলেনি নিবাসী মিরাজ মীর বলেন, আগে ঘূর্ণিঝড় কিংবা বন্যা হলে তার প্রভাব দু’তিন দিন আগে থেকেই পড়া শুরু হতো। কিন্তু এই বারের ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। এই ঘূর্ণিঝড় কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমাদের এখানে কোন প্রভাব পড়ছে না। অনেক আতঙ্কে আছি হঠাৎ করে কী না কী হয়।
বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বরগুনা উপকূলীয় জেলা হওয়ায় আমরা ঝুঁকিতে রয়েছি।তাই মোখা মোকাবেলায় আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি। বরগুনা আড়াই কিলোমিটার বেরিবাধ ঝুঁকিপূর্ণ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে শিগগিরই তা সংস্কার করা হবে।







