অতি-আক্রমণাত্মক ‘বাজবল’ ক্রিকেটের কৌশল কাজে লাগিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য দেখিয়েছে ইংল্যান্ড। টি-টুয়েন্টির মতো ওয়ানডেতে, এমনকি টেস্ট ফরম্যাটেও দ্রুতগতিতে আগ্রাসী ব্যাট করে রান তোলার প্রবণতায় বিশ্বকাপের আগে ইংলিশদের নিয়ে ছিল বাড়তি প্রত্যাশা। তবে বিশ্বকাপে চিরচেনা রূপে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সেভাবে দেখা যায়নি। সেমিফাইনালের আগেই বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছে জস বাটলারের দল।
চার ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আটে ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের জনকদের ভেতর শিরোপা ধরে রাখার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। মাঠের খেলা উপভোগের অনুভূতিও যেন থ্রি লায়নরা হারিয়েছে। হাতে থাকা বাকি পাঁচ ম্যাচে তাদের জয়ের বিকল্প নেই। চারটিতে জিতলেও রানরেটের হিসাবের উপর শিরোপাধারীদের নির্ভর করতে হবে।
বেঙ্গালুরুতে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন মঈন আলী। আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচের পর একাদশেই সুযোগ পাননি ইংলিশদের সহ-অধিনায়ক। দলের বিবর্ণ পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি খোলামেলাভাবেই তুলে ধরেন। একইসঙ্গে নিজেদের ব্র্যান্ডের ক্রিকেট না খেলে অতিরিক্ত চিন্তামগ্ন হয়ে পড়ার বিষয়টিকে সামনে আনেন।
‘বাইরে থেকে যখন সব দেখবেন, ঠিক বোঝা যায় অগ্নিস্ফুলিঙ্গ অনুপস্থিত। পরিস্থিতি সবসময় সহজ ছিল না। তবুও দিন শেষে এটা ক্রিকেট খেলা। আমরা সম্ভবত কিছু পন্থায় এটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। আমরা ভুল করছি। আমি মনে করি, দল হিসেবে আমরা অতিরিক্ত চিন্তা করছি।’
শেষ চারের আগেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা ইংল্যান্ড অবশ্য এখনই হাল হাড়তে নারাজ। তবে আসর থেকে বিদায়ের আগে বড় এক ধাক্কা দিয়েই দেশে ফিরতে চান বলেই ঘোষণা দিলেন মঈন।
‘আমরা যেভাবে খেলছি সেভাবে খেলার কোনো মানেই হয় না। তারপরে আমরা বাদ পড়ে বাড়িতে যাব এবং অনুশোচনা করবো। এখনো বিশ্বাস করি, আমরা যেভাবে খেলে থাকি, সেভাবে খেলতে পারলে বেশিরভাগ দলকে পরাজিত করবো। যদি বিদায় নেই, তাহলে অন্তত একটি ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে আসবো। অবশ্যই তা বিনোদনমূলক হতে হবে। এটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এমন কিছু যা আমরা আগে কখনোই করিনি।’
একাদশ বাছাই, টস, এবং সাধারণ পদ্ধতি নিয়ে অতিমাত্রায় চিন্তা ইংল্যান্ডের বাজে পারফম্যান্সকে কারণ হিসেবে মঈন দাঁড় করান। অধিনায়ক জস বাটলারের ব্যাট হাতে জ্বলে না ওঠাকেও তিনি যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন। উইকেটরক্ষক হওয়ায় ফিল্ডিংয়ের সময় সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার পক্ষে যোগাযোগ রাখাও সম্ভব হয় না বলেও জানান।







