ব্যাক স্ট্রেস ফ্র্যাকচারে জ্যাক লিচ ছিটকে যাওয়ায় অ্যাশেজ সিরিজের বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মঈন আলীকে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছিল ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এসএমএস করে অনুরোধ করেছিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস। পরে অবসর ভেঙে আবারও সাদা পোশাকের ক্রিকেট খেলার সিদ্ধান্ত দেন মঈন।
রঙিন পোশাকে মনোযোগ দিতে ২০২১ সালে টেস্ট থেকে অবসরে গিয়েছিলেন মঈন। অধিনায়ক সেই অবসর ভেঙে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ স্কোয়াডে আসেন তারকা স্পিন-অলরাউন্ডার। তবে সিরিজ শেষেই জানিয়ে দিলেন, টেস্টে তাকে আর দেখা যাবে না।
ওভালে অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টের পর গণমাধ্যমকে ৩৬ বর্ষী ক্রিকেটার বলেন, ‘যদি স্টোকসি আমাকে আবার বার্তা দেয়, আমি সেটা ডিলিট করে ফেলব। আমার যা করার ছিল, সেটা হয়ে গেছে। আমি সত্যিই সিরিজ উপভোগ করেছি এবং শেষটা দুর্দান্ত ছিল।’
‘ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক লাগছে। প্রত্যাবর্তনের আসলে একটু দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ আমি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কখনোই তেমন ভালো খেলিনি। যখন স্টোকসি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল খেলব কিনা, তখন আমি ভাবলাম কেন নয়?’
‘সম্মতি জানিয়ে ফিরে আসতে পারায় আমি খুবই আনন্দিত। প্রথম দিন থেকেই আমি বাজ (ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম) এবং স্টোকসির অধীনে ড্রেসিং রুমে এসেছি।’
৩৮৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নামা অজিরা স্টিভেন স্মিথ ও ট্রাভিস হেডের জুটিতে জয়ের পথেই এগিয়ে যাচ্ছিল। এরপর নামে ব্যাটিং ধস। মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে ক্যাঙ্গারুরা ৪ উইকেট হারায়। মঈনের হাত ধরেই ব্যাটিং ধসের শুরু হয়। হেড ৪৩ রান করে মঈনের বলে জো রুটের হাতে স্লিপে ক্যাচ দেন।
ইংল্যান্ডের হয়ে দারুণ সমাপ্তি নিয়ে মঈন বলেন, ‘এটা আশ্চর্যজনক ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের মাধ্যমে আমি শেষ করতে পেরেছি এবং কিছু সাহায্যের হাত পেয়েছি বলে আমি খুশি। আমি ভালো রান করেছি এবং সত্যিই ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট প্রতিনিধিত্ব করাটা উপভোগ করেছি।’
এজবাস্টনে ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট হারের পর লর্ডস টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়েন মঈন। হেডিংলি টেস্টে দলের প্রয়োজনে তিন নম্বরে ব্যাট করেন। বল হাতে তুলে নেন মার্নাস লাবুশেন এবং স্টিভেন স্মিথের উইকেট।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে তিনি খেলেন ৫৪ রানের ইনিংস। তারপর ওভালে পঞ্চম টেস্টের প্রথম দিনে ব্যাট করার সময় কুঁচকিতে চোট পান। যার ফলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে একটি বলও করতে পারেননি। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং পজিশন পাল্টে ৭ নম্বরে নামতে বাধ্য হন। সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ ওভারে ৭৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সদ্য শেষ হওয়া অ্যাশেজে মঈন চার টেস্টে ২৫.৭১ গড়ে করেছেন ১৮০ রান। ৫১.৪৪ গড়ে নিয়েছেন ৯ উইকেট। ৬৮ টেস্ট খেলে ২৮.১২ গড়ে করেছেন ৩,০৯৪ রান। বল হাতে ৩৭.৩১ গড়ে নিয়েছেন ২০৪ উইকেট। টেস্ট ইতিহাসের ১৬তম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি তিন হাজার টেস্ট রান এবং ২০০ উইকেট অর্জনের মাইলফলকে পা দেন।








