চীনের সাংহাইয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অংশগ্রহণ এই সম্মেলনকে দিয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে চীন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গঠনের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসসিও একটি বিকল্প শক্তি জোট হিসেবে এগিয়ে আসছে।
বর্তমানে এসসিওর সদস্য দেশ ১০টি যার মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, রাশিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও বেলারুশসহ মধ্য এশিয়ার একাধিক দেশ। এই ব্লকে বিশ্বের ৪৩ শতাংশ জনসংখ্যা এবং ২৩ শতাংশ বৈশ্বিক জিডিপি অন্তর্ভুক্ত।
চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ঘোষণা দিয়েছেন, তারা নতুন একটি বহুপক্ষীয় অর্থনৈতিক কাঠামো গড়তে চায়, যার নেতৃত্বে থাকবে বেইজিং।
‘অবজারভেটরি অব ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি (ওইসি)’–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই তিন দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪৫২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছর ছিল ৩৫১ বিলিয়ন ডলার।
এত বড় অঙ্কের বাণিজ্যই প্রমাণ করে, এই ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন শুধু কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩ সালে চীনের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ছিল যুক্তরাষ্ট্র যেখানে গিয়েছে ৪৪২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। তবে আঞ্চলিকভাবে এশিয়াই চীনের প্রধান গন্তব্য।
চীন থেকে ভারত আমদানি করেছে ১২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা চীনের মোট রপ্তানির ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
ভারতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে ভারত সেখানকার বাজারে পণ্য পাঠিয়েছে ৮১.৪ বিলিয়ন ডলারের। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও ভারতের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য গিয়েছে এই অঞ্চলে।
চীনের বাজারে ভারতের রপ্তানি মাত্র ১৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা বাণিজ্য ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
গত ৬ আগস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত রাশিয়া থেকে ছাড়ে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে।
ভারত এই সিদ্ধান্তকে অন্যায্য, অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজস্ব জ্বালানি নীতি অনুসরণের স্বাধীনতা বজায় রাখার ঘোষণা দেয়।
২০২৩ সালে রাশিয়ার মোট রপ্তানির বড় অংশ গেছে চীন (১২৯ বিলিয়ন ডলার) ও ভারত (৬৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার)-এ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া এখন অনেকটাই এশিয়ামুখী বাণিজ্যে নির্ভরশীল। প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল জ্বালানি, গ্যাস, খাদ্যশস্য ও সার।
চীন-রাশিয়া-ভারত: তিন দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক
চীন-রাশিয়া: রাশিয়ায় চীনের রপ্তানি ১১০ বিলিয়ন ডলার, রাশিয়ার রপ্তানি ১২৯ বিলিয়ন ডলার। প্রধান পণ্য তেল, গ্যাস ও যন্ত্রপাতি।
ভারত-রাশিয়া: রাশিয়ার রপ্তানি ৬৬.১ বিলিয়ন ডলার, ভারত থেকে রপ্তানি মাত্র ৪.১ বিলিয়ন ডলার।
ভারত-চীন: চীন ভারতের কাছে বিক্রি করেছে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, কিনেছে মাত্র ১৮.১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।









