ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি-এনডিএ জোট এগিয়ে রয়েছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৮টা (স্থানীয় সময়) থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ২৪৩ আসনের মধ্যে প্রায় ২০০টি আসনে এগিয়ে থাকায় বিহারের ফের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে চলেছেন ৭৪ বছরের নীতীশ কুমার।
অন্যদিকে বিরোধী জোট যার নেতৃত্বে রয়েছে কংগ্রেস, আরজেডি ও কয়েকটি আঞ্চলিক দল তারা ৪০টিরও কম আসনে এগিয়ে আছে। ফলে তাদের পক্ষে শেষ মুহূর্তে ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিবিবির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
নভেম্বরের ৬ ও ১১ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিহারে ৬৬.৯১ ভাগ ভোট পড়েছে ১৯৫১ সালে প্রথম নির্বাচনের পর এটি সর্বোচ্চ। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—মহিলা ভোটারের রেকর্ড উপস্থিতি ৭১.৬ ভাগ, যা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের চালু করা বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প নারী ভোটারদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়, যা জোটকে সুবিধা দিয়েছে।
এর আগে ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধন করে ৭৪.২ মিলিয়নের তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ৪.৭ মিলিয়ন নাম বাদ পড়ে। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে এটি বিজেপির পক্ষে সুবিধা তৈরির জন্য করা হয়েছে এবং অনেক প্রকৃত ভোটার, বিশেষত সংখ্যালঘু মুসলিমরা, তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ অস্বীকার করে।
এক্সিট পোলেই বিজেপি জোটের জয়ের ইঙ্গিত ছিল। জোটের প্রধান অংশীদার নীতীশ কুমারের জেডিইউ ইতোমধ্যেই বিজেপির সঙ্গে রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। নীতীশ কুমার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হলেও আবারও তিনি নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
এদিকে আলোচিত রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরের নতুন দল জন সুরাজ কোনও আসনে এগিয়ে নেই।
বিহার ভারতের অন্যতম দরিদ্র রাজ্য, যেখানে ৭৪ মিলিয়নের বেশি ভোটার। দীর্ঘদিন ধরে মোদীর দল এখানে এককভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি। এবার জোটের এই নির্ণায়ক অগ্রগতি বিজেপির জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ এটি দুই আঞ্চলিক বর্ষীয়ান নেতা—নীতীশ কুমার এবং আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের শেষ নির্বাচন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উভয়ের বয়স ৭০-এর ঘরে এবং শারীরিক অবস্থাও দুর্বল। লালুর ছেলে তেজস্বী যাদব এবার বিরোধী জোটের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ছিলেন।
বিহারের এই নির্বাচন আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব রাজ্যে বিজেপি এখনো ক্ষমতার বাইরে এবং প্রবেশের লড়াইয়ে রয়েছে।
এই ফলাফল চূড়ান্ত হলে বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসবে—এবং মোদির জোট আরও একবার তাদের প্রভাবশালী অবস্থান সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।









