এর আগে পর পর দুইবার সরকার গঠন করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসলেও তৃতীয়বারে এসে জোট সরকার গঠন করতে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদিকে। এর আগে আসনের সংখ্যার বিচারে সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করতে নিজ দল বিজেপি ছাড়া অন্য কোন দলের ওপর নির্ভর করতে হয়নি তাকে।
ভারতে গত ১০ বছরেও কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনায় ক্ষমতার ব্যবহার পুরোটাই ছিলো দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে। কিন্তু জোট সরকার গঠন হলে জোটের অন্যান্য দলগুলোর কথাও শুনতে হবে তাদের। জোট সঙ্গীদের পক্ষ বদলের প্রবণতার কারণে মোদির জন্য বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। এই নতুন কাজের ধরন তিনি কতটা গ্রহণ করতে পারবেন, তার ওপরেই এই সরকারের স্থায়িত্ব নির্ভর করছে।
জোটের দলগুলোর প্রভাব
এবার মোদির দল বিজেপি একক সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ২৭২টি আসনে জয় পায়নি। দল হিসেবে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও তার নেতৃত্বে এনডিএ জোট ২৯৩টি আসনে জয় পেয়েছে। তাই জোটগতভাবে প্রাপ্ত আসনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। তবে এনডিএ জোটের সঙ্গীদের ওপর ভর করেই তাকে সরকার গঠন করতে হবে।

বড় নেতাদের সন্তুষ্টি
কেন্দ্রে সরকার গড়তে ও চালাতে জোট হিসেবে এনডিএর সাংগঠনিক সমর্থনের প্রয়োজন হবে বিজেপির। এনডিএ জোটের বড় দুই নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু এবং নীতিশ কুমার উভয়ই যথাক্রমে ১৬ ও ১২টি করে আসন পেয়েছেন। তারা এখন কেন্দ্রে সরকার গঠন এবং চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিজেপির জন্য অত্যাবশ্যক মিত্র হয়ে উঠেছেন। তারপরে রয়েছেন চিরাগ পাসোয়ানের মতো অন্যান্য সহযোগীরা যারা চার-পাঁচটি আসন নিয়ে এনডিএ জোটের সংখ্যা আসন সংখ্যা ২৯৫ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। তাই এই জোটের অংশীদারদের খুশি রাখতে হবে বিজেপিকে। আর সেটা হবে বেশ চ্যালেঞ্জের।
রাজনীতি
বিজেপি এর মুখপাত্র গোপাল কৃষ্ণ আগরওয়াল বলেন, আমরা অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করেছি যে কীভাবে আমাদের কাজ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ভারতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ধরে রাখবে। রাজনীতি বিষয়টি এমন যা অন্যান্য অনেক বিষয়কে নির্দেশ করে। তাই বিজেপিকেও সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। আমাদের কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী হলেন সেরা যোগাযোগকারী।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা
মুখপাত্র আগরওয়াল বলেছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাটা একটি চ্যালেঞ্জ যা আমরাও গ্রহণ করেছি। সর্বোত্তম যা করা যায় তা করা হচ্ছে। ভারতে বেকারত্বের হার মার্চে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল ১ মাসে যা বেড়ে এপ্রিলে ৮ দশমিক ১ শতাংশে পরিণত হয়েছে। বেসরকারী থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি অনুসারে, কোভিড মহামারীর আগে প্রায় ৬ শতাংশ ছিল। মোদি বছরে ২০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৪ সালে প্রথম ক্ষমতায় এসেছিলেন কিন্তু তার বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
ভারতের জনসংখ্যার সবচেয়ে ধনীরা মাত্র ১ শতাংশের মধ্যে কেন্দ্রীভূত। যদিও দেশটির মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। গত বছরের বেশির ভাগ সময়ে ভারতে সবজি ও খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে দুই অঙ্কে। ভোট শুরুর আগে পরিচালিত বেশিরভাগ জনমত জরিপে মোদি তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্যশস্য, নতুন রাস্তা ও সেতু, এবং তার জন্য একটি বড় বিজয়ের পূর্বাভাস দেওয়ার মধ্য দিয়ে অর্জন করেছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জের হতে পারে।
আগামী ৮ জুন শনিবার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। তার আগের দিন অর্থাৎ ৭ জুন, শুক্রবার এনডিএর সংসদীয় দল এবং নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। সরকার পরিচালনায় এনডিএ জোট সুসংহত রাখাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।









