যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা ইলেকট্রনিক্স পণ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে। মোবাইল, কম্পিউটারের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং সীমান্ত সুরক্ষা দপ্তরের নতুন গাইডলাইনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা পণ্যের ওপর ট্রাম্প ১৪৫ শতাংশ চাপিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা ‘অ্যাপল’-এর আইফোন এবং অন্য পণ্যগুলোর বেশিরভাগই উৎপাদিত হয় চীনে। সে ক্ষেত্রে চীনা পণ্যে চড়া হারে শুল্কের কারণে আমেরিকার বাজারে ‘অ্যাপল’-এর পণ্যের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে মোবাইল এবং কম্পিউটারকে আমদানি শুল্কের নয়া নীতি থেকে বাদ দিলো ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক অব্যাহতি অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের সুবিধা হবে, যারা চীনে আইফোন এবং অন্যান্য পণ্য তৈরি করে।
ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজের হিসাবে, অ্যাপলের প্রায় ৯০ শতাংশ আইফোন উৎপাদন এবং সংযোজন চীনভিত্তিক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও চাইছিলেন যাতে ‘অ্যাপল’ এবং অন্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের পণ্য উৎপাদন করে। চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিটও সেই আভাস দিয়েছিলেন।
তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘অ্যাপল’। সে ক্ষেত্রে মার্কিন শুল্কের কারণে আমদানির খরচ সামলাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই অ্যাপল নিজেদের পণ্য তৈরি করবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং সীমান্ত সুরক্ষা দপ্তরের নতুন গাইডলাইন থেকে অনেকেই অনুমান করছেন, ওই ভাবনাচিন্তা থেকে হয়ত সরে এসেছে মার্কিন প্রশাসন। সম্ভবত সেই কারণেই মোবাইল এবং কম্পিউটারের ওপর শুল্কে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মোবাইল, কম্পিউটারের পাশাপাশি সৌর ব্যাটারি, টেলিভিশনের ডিসপ্লে, মেমোরি কার্ড, সেমিকন্ডাক্টরসহ বেশ কিছু বৈদ্যুতিক পণ্যকেও নয়া শুল্কনীতির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এই পণ্যগুলোর বেশিরভাগেরই যুক্তরাষ্ট্রে খুব বেশি উৎপাদনকেন্দ্র নেই।









