থাইল্যান্ডে আয়োজিত ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’-এর মঞ্চে যিনি কয়েকদিন আগেই আয়োজকদের অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন— “আমি কোনো পুতুল নই”— সেই মিস মেক্সিকো ফাতিমা বশই শেষ পর্যন্ত জিতে নিলেন এ বছরের সর্বোচ্চ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মুকুট।
২১ নভেম্বর (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা) ব্যাংককের আইকনিক মঞ্চে শুরু হয় ফাইনাল রাউন্ড। কঠিন প্রতিযোগিতা শেষে শেষ পাঁচে ওঠেন থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভেনেজুয়েলা, মেক্সিকো ও আইভরি কোস্টের প্রতিযোগীরা। বিচারকদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হয় এ বছরের চ্যাম্পিয়ন—আর সেখানেই আলো ছড়ান ফাতিমা বশ।
মাত্র কয়েকদিন আগে আয়োজকদের অসৌজন্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদ, অনুষ্ঠান ত্যাগ এবং সহ-প্রতিযোগীদের সংহতিতে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিলের প্রকাশ্য বকাঝকা ও ‘ডাম্বহেড’ মন্তব্যের প্রতিবাদ করে ফাতিমার সেই দৃঢ় অবস্থান বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক মাধ্যমে তাকে ‘ভয়হীন নারী’ হিসেবে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন অনেকে।
আজকের ফাইনালে সেই দৃঢ়তা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ফিরে আসে। বিচারকদের প্রশ্নে নারী অধিকার, আত্মসম্মান এবং নেতৃত্বের বিষয়ে তার আত্মবিশ্বাসী উত্তর পুরো হলজুড়ে হাততালি কুড়ায়।
রানারআপ হন মিস থাইল্যান্ড, আর মুকুট ওঠে মেক্সিকোর ২৬ বছর বয়সী ফাতিমা বশের মাথায়—যা মেক্সিকোর ইতিহাসে চতুর্থ ‘মিস ইউনিভার্স’ শিরোপা।
মাত্র কয়েকদিন আগেও যে মঞ্চে তাকে অপমান করা হয়েছিল, একই মঞ্চে আজ তার মাথায় উঠে গেল বিশ্বসৌন্দর্যের সর্বোচ্চ মুকুট- প্রতিবাদের শক্তিই যে শেষ পর্যন্ত সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় আলো, তার জীবন্ত প্রমাণ।









