ফেনীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ধারণা করা হয়, পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।
রোববার (১৫ নভেম্বর) শেষরাতের দিকে শহরের মুক্তবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, রোববার গভীররাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে হেলমেট পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত থানা সংলগ্ন এলাকার মুক্তবাজারে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়ে সটকে পড়ে।
ফেনীর এ ক্যাটাগরির আহত জুলাই যোদ্ধা নাহিদুর রহমান জানান, জুলাই শহীদদের অসম্মান করতে এভাবেই আগুন দেয়া হয়। যেহেতু আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ আছে, পুলিশ চাইলে এসব দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনতে পারবে।’
ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা শুধু জেলায় অবস্থান করছে না; তারা নাশকতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব ফ্যাসিস্টদের শক্ত হাতে দমন না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতা ঘটাবে তারা। দল মত নির্বিশেষে সবাইকে এ ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে মাঠের সোচ্চার হতে হবে।’
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, থানার নাকের ডগায় এরকম ঘটনা ঘটানোর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় যে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা এখনও ফেনীতে অবস্থান করছে। তারা সম্প্রতি সময়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় নাশকতা করেছে। ভবিষ্যতে তারা আরও বড় কিছু করতে পারে। আমাদের দরকার আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার।’
পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার ঘটনা জানার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসি ক্যামরা পর্যবেক্ষন করে কারা কারা আগুন দেয়ার কাজে যুক্ত ছিলো, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফেনীর ১১ জন শহীদ হন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৪ আগস্টের হামলায় ফেনীতেই মারা যান সাতজন। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে আন্দোলনে যোগ দিয়ে শহীদ হন ফেনীর আরও চারজন। আহত হয় শতাধিক।
৪ আগস্ট ফেনীতে সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর নেতৃত্বে দলটির সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের ওপর মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করেন। সেদিন শহীদ হওয়া সাতজন হলেন- ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ, মো. মাহবুবুল হাসান, মো. সারোয়ার জাহান, ওয়াকিল আহমেদ, ছাইদুল ইসলাম, জাকির হোসেন, অটোরিকশাচালক মো. সবুজ।









