চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ওয়ানডেকে বিদায় জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মুশফিক ব্যাটিং করতেন চারে, মাহমুদউল্লাহ ছয়ে। তাদের জায়গায় কারা খেলবেন, চলছে আলোচনা। বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন সাবেক দুই তারকার জায়গায় দেখা যাবে তাকে এবং লিটন দাসকে।
কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল তিনটায় গড়াবে লড়াই। আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং পজিশন নিয়ে কথা বলেন মিরাজ। জানালেন, গুরুত্বপূর্ণ দুটি ব্যাটিং পজিশনে ৪ নম্বরে লিটন এবং ৬ নম্বরে মিরাজ নিজেই ব্যাট করতে পারেন।
বলেছেন, ‘আমরা যখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে এসেছি, ওডিআই খেলেনি এবং দুইটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা কিন্তু চলে গিয়েছে, তারা অবসর নিয়ে নিয়েছে, তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন দলের জন্য। দুইটা জায়গা অনেক মূল্যবান দলের জন্য আমার কাছে মনে হয়। চেষ্টা করবো যারা অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তারা যেন ওই জায়গাটা নিতে পারে। অধিনায়ক হিসেবে আমার কাছে মনে হয় দুইটা জায়গার একটা জায়গা আমি ব্যাটিং করতে পারি। আরেকটা জায়গা হয়তো লিটন দাসকে খেলাতে পারি। কারণ দেখেন যে, ওখান থেকেই কিন্তু খেলাটাকে বানাতে হয়।’
প্রায় ২০ বছর পর পঞ্চপাণ্ডবদের (সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা) ছাড়া নামছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে কলম্বোর প্রেমাদাসায়ই লঙ্কানদের বিপক্ষে সবশেষ এমন ওয়ানডে খেলেছিল টাইগাররা, যে ম্যাচে তাদের কেউ খেলেননি। লঙ্কানদের বিপক্ষে চলতি সিরিজে তাদের কেউই নেই। বিশেষ করে মিডলঅর্ডারে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর না থাকাটা বাংলাদেশের জন্য চিন্তার বিষয়।
দেড়দশকের বেশি সময় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার সামলেছেন তারা। বর্তমানে যারা আছেন তাদের দিয়েই শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করবেন মিরাজ। তবে হুট করে সেই শূন্যতা পূরণ সম্ভব নয় বলে বাড়তি সময় চেয়েছেন। এ বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
বলেছেন, ‘সিনিয়র কোন প্লেয়ারই নেই। এটা তো আমি এর আগেও বলেছি, অবশ্যই আমাদের কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় থাকলে ভালো লাগতো। যেহেতু তারা নেই, তাদের জায়গায় কারা আসবে, সেটা নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি। সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মুশফিক ভাই এবং রিয়াদ ভাই খেলেছে, সে দুইটা জায়গায় আমরা কোন প্লেয়ারদের খেলালে ভালো হবে এবং টিমের জন্য বেটার হবে এবং লম্বা সময়ের জন্য আমরা চিন্তা করতে পারি, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। একটা দুইটা সিরিজে এটা হবে না, এটার জন্য আমাদেরকে সময় দিতে হবে।’
‘একসঙ্গে এতগুলো খেলোয়াড় চলে যাওয়াতে সবার জন্যই একটু কঠিন। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের যে জায়গাগুলো আছে, সেটা ডেভেলপ করার জন্য। আমরা যারা আছি, আমরাও অনেকদিন একসঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি। বিশেষ করে আমি বলেন, শান্ত বলেন, লিটন দাস আছে, মোস্তাফিজ, তাসকিন, তাওহীদ হৃদয়- অনেকে কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেক বছর খেলেছে, তারা জানে কীভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে হবে। সেই জায়গাগুলো আমার মনে হয় প্রস্তুতি নিয়ে খেলতে হবে।’









