ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব পাওয়ার সময়টা ভালো যায়নি মেহেদী হাসান মিরাজের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তার নেতৃত্বে। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হয়েও হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পেতে হয়েছিল। অবশেষে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে মিরাজের নেতৃত্বে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটি মিরাজের জন্য নেতৃত্ব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ ছিল। মিরাজ জানালেন, খারাপ সময়ে দেশের ক্রিকেটের সফলতম দুই অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও তামিম ইকবাল তাকে ফোন করে নানা পরামর্শ দিয়েছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১৭৯ রানে হারিয়ে সিরিজ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন মিরাজ। সেখানে জানান দুই তারকা সাবেকের পরামর্শ নেয়ার কথা। বলেছেন, ‘আমাকে তামিম ভাই ফোন দিয়েছিলেন, তিনি অধিনায়ক ছিলেন, বলেছেন এই কঠিন সময়…. অবশ্যই ভালো কিছু হবে। মাশরাফী ভাই আমাকে ফোন দিয়েছিলেন, তিনি তো অনেক সফল অধিনায়ক। তিনি কিভাবে অধিনায়কত্ব করেছেন আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। তারা দেশের সফলতম দুই অধিনায়ক, তারা আমাকে সমর্থন করছে। এগুলো আমার কাছে ভালো লেগেছে।’
সিরিজ জয় নিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘আমরা খুব ভালো শুরু করেছিলাম। বিশেষ করে সৌম্য ও সাইফ যেভাবে ব্যাট করেছে, দুর্দান্ত শুরু। এই উইকেটে ব্যাট করা সহজ নয়। তবে তাদের ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি। প্রথম ২০ ওভারে অনেক বাউন্ডারি হয়েছে। দায়িত্ব নিয়ে রান বাড়িয়েছে। গত ৪ ম্যাচে আমরা ভালো ব্যাট করিনি। ব্যাটাররা বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল। তবে ইতিবাচক থেকে আমরা ভালো করার উপায় খুঁজছিলাম। এই কন্ডিশনে কীভাবে ভালো করা যায় এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবাই এটাই বলছিল, পজিটিভ না থাকলে রান বের করা যাবে না।’
সিরিজে দলের সেরা পারফর্মার হিসেবে আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন রিশাদ হোসেনের কথা। বলেছেন, ‘রিশাদ পুরো সিরিজে দুর্দান্ত খেলেছে। ব্যাটিং আর বোলিং দুটোই করেছেন। তার মতো খেলোয়াড় পাওয়া অধিনায়কের কাজ অনেক সহজ করে দেয়। দলের সবাই পারফর্ম করার চেষ্টা করছে এবং আমাকে সাপোর্ট করছে। দলের জন্য অবশ্যই ক্রেডিট দিতে হবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরের মন্থর উইকেট নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। মিরাজ অবশ্য মনে করছেন, ঘরের মাঠে সুবিধা নেওয়া স্বাভাবিক। তবে আফগানিস্তানের মত দলগুলো আসলে খেলতে চান স্পোর্টিং উইকেটে।
বলেছেন, ‘আমরা জানতাম উইকেট কেমন হবে। এটা কিন্তু নতুন না। নয়-দশ বছর খেলছি, তখন থেকেই মিরপুরের উইকেট এমন। আগে যখন খেলেছি, তখন কিছু ঘাস ছিল। এখন উইকেটে ঘাস নেই। যে কারণে বল হয়তো একটু ধীরে আসছে। ঘাস থাকলে স্কিড করে। এছাড়া কোন পার্থক্য মনে হয়নি।’









