কুড়িগ্রামের চরের রমিচা খাতুন। অভাব-অনাটনে মানুষ হয়ে তিনি এখন স্বাবলম্বী। স্বামী সন্তান নিয়ে তার সুখের সংসার। তিনি বলেন, ‘আগে দুইটা মানুষের সামনে বের হতে পারিনাই। আগে আমি খুবই ভয় করছি। হামার (আমার) সংসারে আগে অভাব আচলো(ছিল) অনেক, এখন হামার সংসারে আর অভাব নাই। মোটামুটি হামার সংসার নিয়ে ভাল আছি কোন ঝামেলা নাই। ‘
সোমবার রাজধানীতে ‘নারীর আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তি: ক্ষুদ্র ঋণ ও জলবায়ু সহনশীলতা পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
রমিচা আরো বলেন, ‘এখন আমার স্বামী একা কাজ করেনা, আমরা দুইজনে মিলে একত্রে কাজ করি। একারণে আমাদের সংসারের আয় বৃদ্ধি পাইছে। আমি যখন ২০২২ সালে এই প্রযেক্টে যুক্ত হয়েছি, তখন থেকে আমাদের সমাজে ও এলাকায় দাম (সম্মান) পাইছি(বাড়ছে)। আমরা এখন স্বামী-স্ত্রী উভয় পক্ষ মিলে কাজ করি। স্বামী-সন্তান নিয়ে বেশ ভালোভাবে আছি।’
শুধু রমিচা নয়, এজেদা বেগম এবং আইরিস খাতুন তাদের জীবন সংগ্রামের অভিজ্ঞিতার কথা শেয়ার করেন।
গণ উন্নয়ন কেন্দ্র ও প্রথম আলো’র যৌথ আয়োজিত বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণ উন্নয়ন কেন্দ্র(জিইউকে) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম। প্রধান অতিথি হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পিপিআরসি এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।বিশেষ অতিথি ছিলেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) এর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন।
প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর নুজহাত জাবিন। তিনি বলেন, ‘নারীদের উপর বিনিয়োগ করলে তা কার্যকর হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। আমাদের পাইলট উদ্যোগটি একাধিক শিক্ষা দেয়, নারী ঋণগ্রহীতারা যদি আয় বৃদ্ধির মৌলিক সহায়তায় পায় তবে তাদের আত্ম-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলির জন্য নারীরা বিভিন্ন ঋণ প্যাকেজের অনুমোদন পায় ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, লিঙ্গ বৈষম্য মোকাবেলায় লিঙ্গ রূপান্তরমূলক পদ্ধতি গ্রহণে মৌলিক সহায়তা পান তবে তারা সাফল্য লাভ করতে পারবেন।’
প্রকল্প বিষয়ে অগ্রগতি ও ফলাফল উপস্থাপন করেন জিইউকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কৃষিবিদ মুনীর হোসেন।
গোলটেবিল বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্ট্রমী ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি মিজানুর রহমান ভূইয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা, সিপিআরডির নির্বাহী পরিচালক সামসুজদ্দোহা, ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম সাপোর্ট অফিসার ছন্দা রানী, সিদীপের নির্বাহী পরিচালক মিফতা নাইম হুদা, মমতার পরিচালক তৌহিদ আহমেদ, ডাব্লিউএফপির প্রতিনিধি নিগার দিল নাহার।
বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখেন ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব নুজহাত জাবিন। এছাড়াও গোলটেবিল বৈঠকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আইটিএল প্রকল্পটি গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় ৩ বছর হতে জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে (বিশেষভাবে নারীদের) আর্থিক সেবা প্রদান, ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সদস্যদের সহায়তা করে আসছে।









