রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় শনিবার সকালে। অনেকেই এতে আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে ভূমিকম্পে ঢাকার মেট্রোরেলের যাত্রীরা অন্যরকম এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।
সুপ্রিম কর্টের আইনজীবী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত ভূমিকম্পের সময় ছিলেন মেট্রোরেলে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এই আইনজীবী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ছুটির দিন থাকায় শনিবার সকালে আমি সপরিবারে মতিঝিল থেকে মেট্রোরেলে উত্তরার দিয়াবাড়িতে ঘুরতে যাই। এরপর যখন আবার মেট্রোরেলে মতিঝিলের উদ্দেশে ফিরছিলাম তখন মিরপুর এলাকায় থাকা অবস্থায় মায়ের ফোনে ভূমিকম্পের খবর পাই। তবে মেট্রোরেলের ভেতর থেকে আমরা ভূমিকম্পের কোন ঝাঁকুনি টের পাইনি। তবে ভূমিকম্পের পরপরই মেট্রোরেলে ভেতরের স্পীকারে ভূমিকম্পের বিষয়টি যাত্রীদের জানিয়ে অনিবার্য কারণে বিলম্ব হচ্ছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। সেই সাথে পরবর্তী স্টেশন থেকে একেবারেই ধীর গতিতে এগিয়ে চলে মেট্রোট্রেন।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত বলেন, ‘একপর্যায়ে আমরা আমাদের গন্তব্যস্থল মতিঝিল স্টেশনে এসে পৌঁছাই। তবে এখানে এসে ঘটে এক মধুর বিপত্তি। আমরা আমাদের ওয়ানটাইম মেট্রোকার্ড জমা দিয়ে বের হতে গেলে ডিজিটাল স্ক্রিনে ক্রস চিহ্ন আসে এবং আমরা আটকে যাই! তখন ওখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের থেকে জানতে পারি যে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আমাদের অবস্থানের সময় বেশি হওয়ায় আমাদের আটকে দেয়া হয়েছে, এক্ষেত্রে জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে মেট্রোরেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের আমি বলি যে, ভূমিকম্পের কারণে ট্রেন ধীরে চলায় নির্ধারিত সময় হয়তো পার হয়ে গিয়েছে। তখন কর্মীরা ফোনে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ভূমিকম্পের বিষয়টি জেনে আমাদের যেতে দেন। এরপর আমরা বাসায় ফিরি।’
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শনিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে অনুভূত ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে রামগঞ্জে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ কেন্দ্র (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৫। আজকের ভূমিকম্পের সময় অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।









