ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক মৌসুমেই ৩০ ম্যাচে চার হ্যাটট্রিকসহ ৩৪ গোল পেয়ে গেছেন আর্লিং হালান্ড। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো এক মৌসুমে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডে অ্যান্ড্রু কোলে ও অ্যালেন শিয়েরারের পাশে লিখিয়েছেন নাম। আর এক গোল পেলেই যাদের ছাড়িয়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ড লিখবেন।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচে হালান্ড ৫০ গোলের মাইলফলকে পা রেখেছেন। প্রিমিয়ার লিগে ম্যানসিটির হাতে এখনও ছয় ম্যাচ রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দুই লেগ ধরলে মৌসুমে আরও দুটি ম্যাচ নিশ্চিতভাবেই খেলবে পেপ গার্দিওলার দল। ফাইনালে গেলে পাবে আরও একটি ম্যাচ। হালান্ডের এ মৌসুমে ৬০ গোল পাওয়াটা খুবই বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে।
নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডের প্রশংসায় সবসময় পঞ্চমুখ থাকছেন গার্দিওলা। এবার তো বলেই দিলেন, লিওনেল মেসির সঙ্গে হালান্ডের তুলনা শুরুর কথা। ২২ বর্ষী ফুটবলারকে এমন তুলনায় আনাটা প্রাপ্য মনে করলেও আর্জেন্টাইন মহাতারকার ধারে কাছে যাওয়াটা যে এখনও বহুদূরের পথ, সেটিও উল্লেখ করতে ভুল করেননি ম্যানসিটি কোচ।
‘মেসির সঙ্গে কেউ তুলনাযোগ্য হতে পারে না। এটা আর্লিংকে সাহায্য করবে না। তবে গোল এবং মানসিকতার দিক থেকে তুলনা করা যায় কিনা, যদি এটা জানতে চাওয়া হয়, বলব- হ্যাঁ।’
চার বছর বার্সেলোনার কোচ থাকাকালীন গার্দিওলার অধীনে খেলেছেন মেসি। সাবেক শিষ্য মাঠে কতটা দুর্দান্ত সেটি একেবারে কাছ থেকেই দেখেছেন। গোলের নেশায় এলএম টেনের ছুটে চলার সঙ্গে হালান্ডের মিলটাও খুঁজে পাচ্ছেন পেপ।
‘মেসি গত ১০ কিংবা ১৫ মৌসুম ধরে এমন করেছে। আর্লিংও গোল করার ক্ষেত্রে একই পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই সে একটি করে গোল করে। তবে ড্রিবলস, পাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং কঠিন ধাপ পার হওয়ার বিচারে মেসিই আমার দেখা সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড়। আশা করি লিওর অনেক কাছাকাছি আর্লিং যেতে পারবে। এটা আমাদের জন্য এবং তার জন্য দুর্দান্ত হবে।’
২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ছয় মৌসুমের প্রতিটিতে কমপক্ষে ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন মেসি। গার্দিওলা মনে করেন তরুণ হালান্ড এখনও সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারেননি। এটিও জানালেন, পিএসজি তারকার গোলের রেকর্ডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য হালান্ডের রয়েছে।
‘যদি সে এখন সামর্থ্য মতো গোল না করে, তবে লোকেরা বলবে ওহ, হালান্ড একটি খারাপ পরিস্থিতির ভেতর রয়েছে। আপনি তখন দেখবেন সে কেমন কী করছে। আমি আর্লিংয়ের সঙ্গে সবসময় এসব নিয়ে কথা বলি। তার খেলায় আরও উন্নতি হতে পারে।’
‘মনে করি একজন খেলোয়াড় হিসেবে তার আরও ভালো করার ইচ্ছা আছে। যতক্ষণ সে তা করতে পারবে, করতেই থাকবে। আপনি আরও ভালো কিছু করতে পারবেন, এটা জেনে কাজ করে যাওয়াই ঠিক পন্থা।’
‘তাকে যতটা চিনেছি, বুঝেছি সে মানসিকতায় খুব প্রতিযোগিতামূলক এবং ইতিবাচক। নিজের মধ্যে তার এই অবিশ্বাস্য ইতিবাচক আত্মবিশ্বাস রয়েছে। এটা অহংকার নয়, এমন এক আত্মবিশ্বাস যে আমি গোল করতে যাচ্ছি।’
‘ইপিএলে নিজের প্রথম মৌসুমে ইতিমধ্যেই ৫০ গোল করে সে অ্যান্ড্রু কোলে ও অ্যালেন শিয়েরারের মতো দুই কিংবদন্তির রেকর্ডের সমান গোল করেছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার।’







