২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গের পর আর্জেন্টিনা দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এমন সিদ্ধান্ত তার কাছে জীবনের সবচেয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি ছিল। সিদ্ধান্তের পর মরে যাওয়ার মতো চিন্তাও করেছিলেন। সাক্ষাৎকারে এমন জানালেন বিশ্বজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
কোপা আমেরিকার সেই ফাইনালের পর ২০১৬ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত কয়েকমাস জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন মেসি। সেসময়ের কথা স্মরণ করেছেন আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম লুজু’কে সাক্ষাৎকারে। বলেছেন, ‘আমি সিদ্ধান্তটা নিয়ে ভীষণ অনুতপ্ত হয়েছিলাম। খেলা দেখতাম আর মনে হতো, আমি মরে যেতে চাই।’
‘প্রত্যেকেরই নিজের অভিজ্ঞতা নিজেকেই বয়ে নিতে হয়। তবে নিজের অনুভূতিকে কখনোই ত্যাগ করা উচিত নয়। ভাগ্য ভালো, আমি ফিরতে পেরেছি। মানুষ কী বলছে, সেটা তখন আমার কাছে গুরুত্ব পায়নি।’
ইন্টার মিয়ামিতে খেলা মেসি সেই অভিজ্ঞতা থেকে একটি বার্তাও দিয়েছেন। ৩৮ বর্ষী মহাতারকার ভাষায়, ‘সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল- কখনো হাল না ছাড়া। পড়ে গেলে আবার উঠে দাঁড়ানো এবং চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আর শেষপর্যন্ত সফল না হলেও যেন বলা যায়, স্বপ্নপূরণের জন্য সবটুকু চেষ্টা করেছি।’
চিলির কাছে হারের পর ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালের মিক্সড জোনে মেসি বলেছিলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমার সব শেষ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এটা আমার জন্য নয়। চারটি ফাইনাল খেলেছি- তিনটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ। কিন্তু কিছুই হল না। আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু মনে হয় এটাই শেষ।’
সেই সিদ্ধান্ত বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২৭ জুন থেকে ১২ আগস্ট- এই সময়ের মধ্যেই তৎকালীন আর্জেন্টিনা কোচ এডুর্ডো বাউসার সঙ্গে আলোচনার পর জাতীয় দলে ফেরার ঘোষণা দেন মেসি। ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটে তার। পরে কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ জিতেছেন।









