স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলা। প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বুড়িচংয়ের অন্যান্য গ্রামের প্লাবিত মতো পূর্ণমতি গ্রামও। এই গ্রামের প্রায় ৯৫ মানুষ শতাংশ মানুষের বন্যাকবলিত।
জানা যায়, গত ২২ আগস্ট গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে দিশেহারা হয়ে পরে মানুষ। কিছু বুঝে উঠার আগেই বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে অনেক পরিবার পানবন্দি হয়ে পড়ে। এ এলাকার মানুষ কখনো এতো পানি দেখেনি। পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসে গ্রামের সেচ্ছাসেবী সংগঠন পূর্ণমতি স্টুডেন্ট ফোরামের (পিএসএফ) সদস্যরা। পাশাপাশি সেচ্ছাসেবকরা গবাদি পশুগুলোকেও নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছাতে সাহায্য করে। আকস্মিক এই বন্যায় পিএসএফের সদস্যরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই গ্রামবাসীর প্রতি সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছে। অনুদান হতে প্রাপ্ত প্রায় ২ টনেরও বেশি শুকনো ও রান্না করা খাবার আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি পুরো গ্রামে বন্টন করে। এবং মরহুম আব্দুল লতিফ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গবাদিপশুর জন্য ৫২৬ টি পরিবারে প্রায় ১ টন গোখাদ্য প্রদান করা হয়। আশ্রয়কেন্দ্রেসহ গ্রামের অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হয়। প্রায় ১০০০ জনের ফ্রি চিকিৎসার পাশাপাশি ১ লক্ষ টাকার প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়।
তথ্য ও সেবা প্রদান কেন্দ্র তৈরি করে বন্যার্তদের যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করার আহ্বান করা হয়। বন্যার্তদের যোগাযোগের ভিত্তিতে পূর্ণমতি স্টুডন্টে ফোরাম তাদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করে।
সেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের ইনজামাম উল ইসলাম বলেন, বন্যার পানি কমার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহযোগিতার পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে বৃক্ষরোপন করা হবে।
ডাক্তার সোলেমান হক মিঠু জানিয়েছেন, পিএসএফসের পক্ষ থেকে গ্রামে নিয়মিত বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প করা হবে।
এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়ায় দলমত নির্বিশেষে গ্রামের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।









