বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম চলচ্চিত্র উৎসবগুলোর অন্যতম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (টিআইএফএফ)। ৫ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠলো এই উৎসবের ৪৯তম আসরের। যেখানে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি ছবি ‘সাবা’র! যে ছবির মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষিক্ত হচ্ছেন লাক্সসুপারস্টার খ্যাত দেশের ছোটপর্দার তারকা অভিনেত্রী মেহজাবীন।
১১ দিনব্যাপী টরন্টো উৎসবে ‘সাবা’র প্রথম শো হতে যাচ্ছে শনিবার! আর উদ্বোধনী প্রদর্শনীর টিকেট পাননি স্বয়ং অভিনেত্রী! উৎসবের ওয়েব সাইটে টিকেট ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকেট শেষ হয়ে গেছে বলে আগেই জানিছে উৎসব কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি মেহজাবীনও জানিয়েছে গেল সপ্তাহে। তিনি তখন জানান, টিকেট ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৭ তারিখের সমস্ত টিকেট শেষ হয়ে গেছে। বন্ধুদের জন্য টিকিট কাটতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তবে আশার কথা হচ্ছে, ঠিক পরের দিনেই (৮ সেপ্টেম্বর) আছে ‘সাবা’র আরো একটি শো। সেদিন উপস্থিত থাকবেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
উৎসবের ওয়েব সাইট দেখে জানা যায়, ৭ ও ৮ তারিখ ছাড়াও উৎসবে ১৪ তারিখে হবে ‘সাবা’র আরেকটি শো। মেহজাবীন জানিয়েছেন, সেই শোতেও তিনি উপস্থিত থাকবেন।
টিআইএফএফ-এর চলমান উৎসবে ডিসকভারি প্রোগ্রামে বিশ্বের ২৪টি চলচ্চিত্রের সাথে স্থান করে নিয়েছে ‘সাবা’। এটি পরিচালনা করেছেন মাকসুদ হোসেন। গেল ফেব্রুয়ারিতে মেহজাবীনের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘সাবা’র পোস্টার উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ছবিটি নিয়ে প্রথমবার জানানো হয়।
‘সাবা’ নিয়ে টিআইএফএফ-এর ওয়েবসাইটে একটি ফিচার করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতা মাকসুদ হোসেন সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি দৃষ্টিভঙ্গিতে মা-মেয়ের সম্পর্ক দেখিয়েছেন।
বাবা নিখোঁজ হওয়ায়, সাবা তার অসুস্থ মা শিরিনের একমাত্র অবলম্বন, যিনি হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছেন। নানা হতাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রায়ই শিরিন তার মেয়ের প্রতি তিক্ততা এবং রাগ দেখান। তাই তারা একসঙ্গে থেকেও নিজস্ব আলাদা জগতে বাস করেন। শিরিনের হার্ট অ্যাটাক হলে মায়ের হার্ট সার্জারির জন্য সাবা তাদের বাড়ি বিক্রি করার চেষ্টা করেন, জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন। এমনকি তার সিনিয়র সহকর্মী অঙ্কুর-এর সাথে তার জমে উঠতে থাকা রোমান্সকেও ঝুঁকিতে ফেলেন, যে বিদেশে পাড়ি জমাতে মরিয়া।
সাবা চরিত্রটি দিয়ে মাকসুদ হোসেন নানা দুঃখজনক ঘটনা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সংগ্রাম করতে দেখিয়েছেন। একটি চরিত্রের দৈনন্দিন বাস্তবতার কথা ফুটে উঠে ‘আমরা এখানে কোনোমতে বেঁচে থাকার জন্য শ্বাস নিচ্ছি’-সংলাপের মধ্য দিয়ে। সাবার সামনে দুটি পথ থাকে। চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে জীবন গড়া অথবা সকল কষ্ট পেছনে ফেলে অন্য দেশে চলে যাওয়া, আরেক পৃথিবীর খোঁজে।
মেহজাবীন চৌধুরী, রোকেয়া প্রাচী এবং মোস্তফা মনোয়ারের অসাধারণ অভিনয়, ডায়নামিক সিনেমাটোগ্রাফি এবং প্রাণবন্ত কালার প্যালেটে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অঙ্কুর, সাবা এবং শিরিনের অন্ধকার দৃষ্টিভঙ্গির চিত্র। চরিত্রগুলি ছোট ছোট বিষয়ে আনন্দ এবং বেঁচে থাকার কারণ খুঁজে পায়— ভাল খাবার, তাজা বাতাস, গান এবং মাঝে মাঝে নিষিদ্ধ অ্যালকোহলে চুমুক।
‘সাবা’র পরিচালক মাকসুদ হোসেন গ্লোবাল মিডিয়া মেকার্সসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করেছেন। সেই সাথে ‘সাবা’সহ নিজের পরিচালিত আরো একটি সিনেমা নিয়ে ভারত ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফিল্ম বাজারের কো-প্রোডাকশনে অংশ নিয়েছেন।









