পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ-ওয়াসা এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেছেন: এই দুটি সরকারি সংস্থা বিনা অনুমতিতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে এবং তাদের বাধা দিলে চুরি করে রাস্তা নষ্ট করে।
অনেক সময় ওপরওয়ালাদের কাছে নালিশ ও অপবাদ দেয় বলেও অভিযোগ করেন মেয়র।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত এক সংলাপে এই অভিযোগ করেন মেয়র তাপস।
তিনি বলেন, ২০২০ সালে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটি করপোরেশন বুঝে নেওয়ার চার বছর পার হলেও রাজধানীর জলাবদ্ধতার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বর্ষাসহ স্বল্প বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান। বর্ষাকালে রাস্তা খননের জন্য কোনো সংস্থাকে অনুমতি দেবে না জানিয়ে আগেই নোটিশ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরপর অনুমতি না পেয়ে চুরি করে ওয়াসা ও তিতাস রাস্তা খনন করে কাজ করে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে খালগুলোকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে পুনরুদ্ধার করার বিকল্প নেই জানিয়ে ডিএসসি মেয়র বলেন: সরকারি-বেসরকারি ভূমি দস্যুদের আগ্রাসন যতদিন বন্ধ হবে না, ততদিন জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব নয়। হোক সরকারি কিংবা বেসরকারি; ভূমি দস্যুদের আগ্রাসন দূর করতে পারলে ঢাকা শহর জলাবদ্ধতা মুক্ত হবে; খাল দখলমুক্ত থাকবে।
সরকারি ও বেসরকারি দস্যুদের আগ্রাসন ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে বেকায়দায় ফেলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দাবি করেন, আদি বুড়িগঙ্গায় দশতলা ভবন নির্মাণকারীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি ছিল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিগত ৪ বছরে গৃহীত ও বাস্তবায়িত নানা উদ্যোগ তুলে ধরে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন: মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার পর যেসব জায়গায় আধাঘন্টার বেশি বৃষ্টির পানি জমা থাকে সেসব জায়গা ও স্থানকে জলাবদ্ধ বলে আমরা চিহ্নিত করছি। ২০২০ সালের পর হতে আমরা এ রকম ১৬১টি স্থান চিহ্নিত করেছি এবং ইতোমধ্যে ১৩৬টি স্থানে আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে করে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে সক্ষম হয়েছি। বাকী জায়গাগুলোতে কাজ চলমান রয়েছে।
ব্যারিস্টার তাপস বলেন: অনেক জায়গায় আমরা দেখেছি, নিকটবর্তী স্থান দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে প্রায় এক-দেড় কিলোমিটার ঘুরিয়ে দূরবর্তী স্থান দিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বংশাল এলাকার পানি ফুলবাড়িয়া হয়ে নর্থ-সাউথ সড়ক দিয়ে ধোলাইখাল হয়ে বুড়িগঙ্গায় নিষ্কাশিত হতো। আমরা সেটি ৬ ফুট ব্যাসের নর্দমার মাধ্যমে সরাসরি বাবুবাজার সড়ক দিয়ে বুড়িগঙ্গায় নিয়ে যাচ্ছি। আগামী ৩০ বছরেও সেখানে আর জলাবদ্ধতা হবে না।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া আলোচক হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত।









