ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা পড়ে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রশাসনের তথ্যমতে, গভীর রাতে বিলাসপুর জেলাসংলগ্ন পাহাড়ি রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের পর ওই এলাকায় হঠাৎ পাহাড়ধস হলে বাসটি মাটিচাপা পড়ে যায়। বাসটিতে তখন ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ, চারজন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তিনজন আহত শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুকভিন্দর সিং সুকুর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র।
পুলিশ বলছে, বুধবার (৮ অক্টোবর) উদ্ধার অভিযান চলছিল, কারণ আরও কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদসংস্থা এএনআই প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, পাহাড়ি রাস্তায় বাসটির ভাঙাচোরা ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে, আর উদ্ধারকর্মীরা মাটি সরিয়ে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত অন্যান্য দৃশ্যে দেখা যায়, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে উদ্ধারকর্মীরা কাদামাটি ও পাথর সরাচ্ছেন, অন্যদিকে কিছু উদ্ধারকর্মী ভেজা কাপড় ও ব্যাগের মতো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র খুঁজে দেখছেন।
প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সোমবার থেকে এ অঞ্চলের পাহাড়ি ঢালগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, যা ভূমিধসের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তোলে।
দুর্ঘটনার পর ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এই বছর দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে বন্যা ও ভূমিধস ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ ও নেপাল সব দেশই এর প্রভাবের শিকার হয়েছে।
গত আগস্টে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় উত্তরাখণ্ড রাজ্যে আকস্মিক বন্যায় একটি পুরো গ্রাম ভেসে যায়, আর পাশের দেশ নেপালে গত সপ্তাহান্তে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়।
নেপালে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল চলে। মৌসুমের শেষ প্রান্তে হওয়া এ বৃষ্টিপাতে রাজধানী কাঠমান্ডুর বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয় এবং শনিবার সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বৃষ্টিপাত আরও অস্থির ও অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। আগে নির্দিষ্ট সময়ে স্থিতিশীলভাবে বৃষ্টি হলেও এখন অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির পর দীর্ঘ খরার সময় দেখা দিচ্ছে যা মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ভারসাম্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি তৈরি করছে।









