থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলে সংঘর্ষে থাই সেনাদের কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট সংঘর্ষে অন্তত ২৯ জন কম্বোডীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গ্রামবাসী ছাড়াও রয়েছেন বেশ কয়েকজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী।
আল জাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় (১৭ সেপ্টেম্বর) বুধবার বিকেলে এই সহিংসতা ঘটে, যা জুলাই মাসে দুই দেশের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে থাই সেনাবাহিনীর এই আচরণকে কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে কড়া নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, থাইল্যান্ডকে এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে, যা উত্তেজনা বাড়াতে পারে বা বিরোধ আরও ঘনীভূত করতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন কম্বোডিয়ার প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। এই অঞ্চলটি থাইল্যান্ডের সা কায়ো প্রদেশের বান নং ইয়া কাও গ্রাম বলে দাবি করছে থাই কর্তৃপক্ষ, আর কম্বোডিয়া বলছে এটি তাদের বান্টেয় মেঞ্চেই প্রদেশের প্রেই চ্যান গ্রামের অন্তর্ভুক্ত।
থাই সেনাবাহিনী জানায়, বিক্ষোভকারীরা সীমান্তে কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসানোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও উচ্চশব্দে ভীতি ছড়াতে সক্ষম লং-রেঞ্জ অ্যাকুস্টিক ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। পরিস্থিতি যাতে পূর্ণাঙ্গ দাঙ্গায় রূপ না নেয়, সে জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুসারে নিয়ন্ত্রণমূলক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা লাঠি, পাথর এবং গুলতি ব্যবহার করছিলেন
ঘটনার পর উভয় দেশের সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করেনি, তবে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার আহ্বান জোরালো হচ্ছে। এর আগেও সীমান্তে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ৪৮ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।









