অর্থ পাচারের অভিযোগে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি)’র তদন্ত চলমান থাকায় দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল তান শ্রী মুহাম্মদ হাফিজুদ্দিন জানতানকে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
একইসঙ্গে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী প্রধান জেনারেল তান শ্রী মোহাম্মদ নিজাম জাফরের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল তান শ্রী জুলহেলমি ইথনাইনকে ভারপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) মালয় মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ খালেদ নরদিন বলেন, স্বার্থের সংঘাত এড়াতে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, অ্যাডমিরাল জুলহেলমি তাৎক্ষণিকভাবে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বিবৃতিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান মোহাম্মদ নিজামের সেবা, নেতৃত্ব ও তার দায়িত্বকালীন অবদানের জন্য সর্বোচ্চ প্রশংসা জানানো হয়। পাশাপাশি তার অবসরকালীন জীবন শান্তিপূর্ণ ও মসৃণ হোক এমন কামনাও করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামা জানিয়েছে, রাজনৈতিক কর্মী বদরুল হিশাম শাহারিন-যিনি ‘চেগুবার্ড’ নামে পরিচিত একজন ঊর্ধ্বতন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ উত্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এমএসিসি তদন্ত শুরু করে।
এমএসিসি প্রধান তান শ্রী আজম বাকি নিশ্চিত করেছেন, মালয়েশিয়ান অ্যান্টি-করাপশন কমিশন আইন ২০০৯-এর ধারা ১৭(এ)-এর অধীনে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার এমএসিসি কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর পুসাত তাংগুংজাওয়াব (পিটিজে)-এর আওতায় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়িত বিভিন্ন ক্রয় প্রকল্প খতিয়ে দেখা হয়।
এমএসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া তদন্তে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ রিঙ্গিতের বেশি মূল্যের ১৫৮টি প্রকল্প শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সীমার নিচে আরও ৪ হাজার ৫২১টি প্রকল্প পর্যালোচনায় এসেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কয়েকটি কোম্পানি বারবার উচ্চমূল্যের চুক্তি পেয়েছে, যা তদন্তকারী সংস্থার উদ্বেগের কারণ হয়েছে।
এদিকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এমএসিসি তদন্তে সহায়তার জন্য তিনজনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।









