পটুয়াখালীর বাউফলে অটোচালক সুজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি গোলাম সরওয়ার জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে আদালত চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ রোববার পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ এ তথ্য চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায় এরআগে হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর ২৮ জানুয়ারি এনামুল হক ও জিহাদ মুন্সীকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে এনামুল ওই ইউনিয়ন জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক ও জিহাদ ছাত্রদলের কর্মী।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের আমিরাবাদ বাজারে নিজ অটোরিকশায় বসে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন সুজন হাওলাদার। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বয়ক মনিমুল ইসলাম মিরাজ ও তার ছোট ভাই মোরসালিন ইসলামের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা হঠাৎ এসে সুজনকে বিদেশি চাকু দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা সুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা নবী আলী হাওলাদার বাদী হয়ে বাউফল থানায় ২০ জনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, মামলার আসামি এনামুল ও জিহাদ কারখানা নদী পারি দিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর মঞ্জু আদালতে জামিনের জন্য গেলে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা বাউফল থানা পুলিশের। সব আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে বলেও দাবি পুলিশের।
এদিকে নিহত সুজনের হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামে গত বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। একন পর্যন্ত প্রধান আসামিসহ চার জন গ্রেপ্তার হলেও অপরাধীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী শঙ্কিত। তবে এ শঙ্কার কোনো প্রকার ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা।
পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, বাউফল থানা পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করছে, এখানে কে প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক দলের তা মুখ্য বিষয় নয়। আইনের চোখে যারা অপরাধী তাদের আমরা বিচারের মুখোমুখি করব।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, নিরাপত্তাহীনতার জন্য আমাদের কাছে কোনো এলাকাবাসী অভিযোগ করেনি এবং আমরাও এরকম কিছু শুনি নাই। কেউ নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করলে থানায় অভিযোগ দিবে, আমরা বিষয় খতিয়ে দেখব।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি স্থানীয় বিরোধ-সংক্রান্ত হলেও কিছু গণমাধ্যম নিহত সুজনকে যুবলীগ নেতা প্রচার করে ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পুলিশ ও নিহতের পরিবারের।
সুজনের বাবা নবী আলী হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। সে পেশায় একজন অটো গাড়ীর ড্রাইভার ছিল। অটো গাড়ী চালিয়ে সে জীবিকা নির্বাহ করত। ৫ আগস্টের পর থেকেই আমার ছেলের কাছে মাসিক ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল আসামিরা। তারা এলাকার চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী। মাসিক চাঁদার টাকা না দিলে আমার ছেলেকে রাস্তায় গাড়ী চালাতে দিবে না বলেও বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। ইতিমধ্যে কয়েকবার আমার ছেলের অটো গাড়ী পথে ঘাটে আটকিয়ে টাকা পয়সা নিয়েছিল।
ঢাকার প্রেসক্লাবের সামনেও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
রোববার অটোচালক সুজনের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবীতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নিরীহ অটোচালক সুজনকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে চাপ দিয়ে আসছিল হত্যাকারীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এলাকার চিহ্নিত ২০-২৫ জন চাঁদাবাজ সংঘবদ্ধ হয়ে দরিদ্র অটোচালক সুজনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।মানববন্ধনে বক্তারা ওই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান।









