ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যু পর সারাদেশ জুড়ে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার ১৯ ডিসেম্বর সকালে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, আমার প্রিয় সহনাগরিকরা জুলাই থেকে আমি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, পুনর্গঠন, আইনের শাসন ও জাতীয় পুনর্মিলনের রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছি। এটাই ছিল শহীদ ওসমান হাদির রাজনৈতিক ধারা, এবং আমি অবিচলভাবে সেই ধারাই এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই কিংবা দেশপ্রেমের নামে সহিংসতা ও অরাজকতার যে কোনো প্রচেষ্টা আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আমি এটিকে কখনোই বৈধতা দেব না, আবার এর কাছে আত্মসমর্পণও করব না।
স্পষ্ট করে বলতে চাই শহীদ মিনারে আমার বক্তব্য ছিল শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের এবং আমাদের জীবননাশের হুমকি অব্যাহত রাখা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি ও পরিষ্কার নিন্দা। একই সঙ্গে সেই বক্তব্যে কোনো দ্বিধা ছাড়াই পুনর্গঠনের প্রতি আমার দৃঢ় ও নীতিনিষ্ঠ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে ধ্বংসের নয়।
জুলাইয়ের শুরু থেকে আজ শাহবাগের এই সমাবেশ পর্যন্ত আমি ধারাবাহিকভাবে গঠনমূলক রাজনীতি, জবাবদিহিসহ স্বাধীনতা এবং আমাদের যৌথ মানবিকতার ভিত্তিতে করুণার পক্ষে কথা বলে এসেছি। আমার অবস্থান ছিল স্পষ্ট, সঙ্গতিপূর্ণ ও অটল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ মানে উন্নত বিকল্প গড়ে তোলা—নিয়মনিষ্ঠ সমাজ ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা।
তবে দুঃখজনক যে, শহীদ মিনারে দেওয়া আমার একটি মন্তব্য আমার প্রকৃত উদ্দেশ্যের বিপরীতে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেটি ছিল অনুভূতির তাৎক্ষণিক বহিঃপ্রকাশ এবং রূপক অর্থে বলা—অন্তত সেটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম। ওই দিনের মন্তব্যে যারা মর্মাহত হয়েছেন, সেই সব সচেতন নাগরিকের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
আমি বাংলাদেশের মানুষকে সতর্ক করে বলতে চাই—ফাঁদে পড়বেন না। কিছু উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী ধ্বংসাত্মক ও নৈরাজ্যবাদী রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সব দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে আহ্বান জানাই—পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, সহিংস ঐতিহ্য ও ব্যর্থ চর্চা থেকে স্পষ্ট দূরত্ব টানুন। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য প্রয়োজন গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান ঠেকাতে হবে-এটি এখন জরুরি জাতীয় দায়িত্ব। ‘দায়িত্ব, দরদ, মর্যাদা ও গঠন’-এই রাজনৈতিক নীতিতে আমি দৃঢ়ভাবে অটল, অর্থাৎ দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা, মর্যাদা এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ।
দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও কূটনৈতিক স্থাপনায় সংঘটিত জঘন্য হামলার আমি তীব্র ও দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে আমাদের শ্রদ্ধেয় সহযোদ্ধা নুরুল কবিরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও উসকানিরও নিন্দা করছি তিনি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক নীতিনিষ্ঠ ও সাহসী কণ্ঠ।
আমাদের সামনে পথ পরিষ্কার। আমরা শহীদ ওসমান হাদির উত্তরাধিকারকে অরাজকতার মাধ্যমে নয়, প্রতিরোধ, পুনর্গঠন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মাধ্যমে সম্মান জানাব। ফ্যাসিবাদ ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম শহীদ ওসমান হাদি অসমাপ্ত রেখে গেছেন, তা ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।
শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই সংকটময় সময়ে দেশের সব নাগরিককে শান্ত, সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার অনুরোধ করছি।
আল্লাহ শহীদ ওসমান হাদিকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।









