ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি) কারাগারে রাখা হয়েছে। বিতর্কিত এই কারাগারটি এতটাই সমস্যাপূর্ণ যে, অতীতে কিছু বিচারক অভিযুক্তদের সেখানে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। নানা সংকট ও অভিযোগের কারণে এমডিসি ব্রুকলিনকে অনেক সময় ‘হেল অন আর্থ’ বা ‘নরকের মতো জায়গা’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়।
আজ (৫ জানুয়ারি) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে চালু হওয়া এমডিসি ব্রুকলিনে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বন্দি রয়েছে। এটি মূলত ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতগুলোতে বিচারাধীন আসামিদের রাখার নিয়মিত কেন্দ্র। এখানে অভিযুক্ত গ্যাং সদস্য ও মাদক পাচারকারীদের পাশাপাশি সাদা-কলার অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও রাখা হয়।
নিউইয়র্কের জলতীরবর্তী শিল্পাঞ্চলে একটি শপিং মলের পাশে অবস্থিত এই কারাগারটি স্ট্যাচু অব লিবার্টির কাছেই। তবে অবস্থান সুন্দর হলেও ভেতরের পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বন্দী ও তাদের আইনজীবীরা সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা ও দুরবস্থার কথা বলে আসছেন। ২০২৪ সালে দুই বন্দী অন্য বন্দীদের হামলায় নিহত হন। এছাড়া কিছু কারা কর্মীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া ও নিষিদ্ধ সামগ্রী সরবরাহের অভিযোগও ওঠে। ২০১৯ সালের শীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে কারাগারটি এক সপ্তাহ অন্ধকার ও ঠান্ডার মধ্যে ছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কারা ও চিকিৎসাকর্মী নিয়োগ, রক্ষণাবেক্ষণের শত শত কাজ সম্পন্ন এবং বিদ্যুৎ, পানি, খাবার ও তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে অপরাধ কমাতে কর্তৃপক্ষ অভিযানও জোরদার করেছে। গত মার্চে অস্ত্র পাচার থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত ঘটনায় ২৩ বন্দীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ব্যুরো অব প্রিজনসের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে বন্দী সংখ্যা কমেছে এবং কারাগারের ভেতরের অপরাধ ও নিষিদ্ধ সামগ্রীর প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

মাদুরোকে কারাগারে নেওয়ার খবরে শনিবার রাতে জেলটির বাইরে ভেনেজুয়েলার প্রবাসীদের একটি বড় জমায়েত দেখা যায়। অনেকেই জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মাদুরোর আটক হওয়াকে উদ্যাপন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বহর জেলে প্রবেশ করার সময় তারা উল্লাস প্রকাশ করেন। এমডিসি ব্রুকলিনে বন্দী হওয়া প্রথম কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট নন মাদুরো। এর আগে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরলান্ডো হার্নান্দেজ মাদক পাচারের মামলায় বিচার চলাকালে এই কারাগারে আটক ছিলেন। পরে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৪৫ বছরের সাজা পেলেও, গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে মুক্তি দেন।
বর্তমানে এই কারাগারে মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইসমাইল ‘এল মায়ো’ জামবাদা গার্সিয়াসহ একাধিক আলোচিত আসামি আটক রয়েছেন। অতীতে এখানে ক্রিপ্টো উদ্যোক্তা স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড এবং জেফরি এপস্টাইনের সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলসহ বিভিন্ন আলোচিত ব্যক্তিকে রাখা হয়েছিল। কারাগারে থাকাকালে মাদুরো কিছু পরিচিত মুখের মুখোমুখি হতে পারেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হুগো কারভাহাল, যিনি ২০১৯ সালে মাদুরোর বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন।









