ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন বলে বুধবার (৮ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু ও তার মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি নতুন মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করেছিলেন যা আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী সরকার হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
ম্যাক্রোঁর অনুরোধে লেকর্নু রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসেন মধ্য-বাম থেকে মধ্য-ডান যাতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের পথ খোঁজা যায়।
এলিসের বিবৃতিতে বলা হয়, বেশিরভাগ সংসদ সদস্য সংসদ ভেঙে দেওয়ার (দিসলিউশন) বিপক্ষে। স্থিতিশীলতার জন্য একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাজেট পাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। এই ভিত্তিতেই প্রেসিডেন্ট আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।
লেকর্নু দুই দিনব্যাপী রাজনৈতিক আলোচনা শেষ করলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। তবে তিনি আশাবাদী যে শিগগিরই নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এখনো একটি পথ খোলা আছে। ২০২৬ সালের বাজেট অনুমোদন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সমঝোতা সম্ভব। ফ্রান্স টু টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেকর্নু বলেন, চুক্তি করা কঠিন হবে, কিন্তু প্রেসিডেন্টকে সংসদ ভেঙে আগাম নির্বাচন দিতে হবে এমন পরিস্থিতি আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ বা আগাম নির্বাচন চেয়ে বিভিন্ন দল চাপ বাড়িয়েছে। ডানপন্থী ও বামপন্থী উভয় শিবিরের নেতারা এই দাবি তুলেছেন।
ফার-রাইট ন্যাশনাল র্যালির এমপি লর ল্যাভালেত বলেন, ম্যাক্রোঁ সময় কেনার চেষ্টা করছেন।” দলটির নেতা মারিন ল্য পেনও আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, এই নাটকের শেষ হওয়া উচিত, এখনই আগাম নির্বাচন চাই।
অন্যদিকে বামপন্থী ‘ফ্রান্স আনবাউড’ দলের নেতা জ্যাঁ লুক মেলঁশোও পুনরায় বলেন, সংকট থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অলিভিয়ে ফোর এবং গ্রীন পার্টির নেতা মারিন তঁদোলিয়ে বলেন, বামপন্থীরা নতুন সরকার পরিচালনা করতে চায়। তারা ২০২৬ সালের বাজেটে ধনীদের ওপর ২ শতাংশ সম্পদকর আরোপ ও বিতর্কিত পেনশন সংস্কার বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন থাকলেও বুধবার ফরাসি শেয়ারবাজারে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। প্যারিসের সিএসি ৪০ সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে ২০২৫ সালে ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এটি এখনো অন্যতম দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।









