ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো বলেছেন, তিনি বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক ব্যক্তিগত বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পদক প্রদান করেছেন।
শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মাচাদো পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক প্রদান করেছি, এটিকে আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতি” বলে অভিহিত করেন তিনি।
ট্রাম্প একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন যে এই পদক্ষেপ “পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি দুর্দান্ত নিদর্শন”।
তিনি আরও বলেন, মাচাদোর সাথে দেখা করা একটি “মহান সম্মান”, তাকে “অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে যাওয়া একজন অসাধারণ নারী” বলে অভিহিত করেন তিনি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের মতে, হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার পর, মাচাদো বাইরের গেটে জড়ো হওয়া সমর্থকদের সাথে স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের উপর নির্ভর করতে পারি।”
গত সপ্তাহে মাচাদো বলেছিলেন, তিনি ট্রাম্পের সাথে নোবেল শান্তি পুরষ্কার ভাগ করে নেবেন। কিন্তু নোবেল কমিটি পরে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি হস্তান্তরযোগ্য নয়।
মাচাদোর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে, নোবেল কমিটি সংবাদ মাধ্যমকে তাদের পূর্ববর্তী বিবৃতিটি দেখার নির্দেশ দেয়।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-মাচাদোর বৈঠকের আগে, নোবেল কমিটি এক্স-এ পোস্ট করেছিল, “একটি পদক মালিক পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি পরিবর্তন করতে পারে না।”
মাচাডো বলেন, এই উপহারটি তার দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে ভ্রাতৃত্বের প্রতীক ছিল।
ওয়াশিংটন সফরে মাচাদো কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার লক্ষ্য ছিল, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো।
এদিকে এক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করেছে। প্রথম চালানে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি করেছে তারা।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। বর্তমানে তারা উভয়েই নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন।









