অভিবাসন বিরোধী তল্লাশির জেরে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস শহরের কেন্দ্রস্থল। বিক্ষোভকারীরা যানবাহনে আগুন দিয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার পুলিশ। লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশ বিভাগ বলছে, আগুন নেভানোর জন্য তারা ওই এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে সেখানে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের টিয়ার শেল ব্যবহার করে পিছু হটানোর নির্দেশ দিয়ে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর সেনা মোতায়েনের নির্দেশ বাতিলের জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। আরেকজন ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর প্রেসিডেন্টের নির্দেশকে ‘উদ্বেগজনক ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে বিক্ষোভকারীরা শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অচল করে দেয়ার পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে। সড়কটি আবার চালু করার জন্য বেশ কয়েকজনকে আটক করতে হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সড়কটি একবার চালুর পরপরই আবার বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সড়কটিতে বিভিন্ন জিনিস ছোঁড়ার কারণে ও পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১০১ ফ্রিওয়ে পরবর্তী নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
শহরের মেয়র কারেন ব্যাস বলেছেন, প্রশাসনের উস্কানির কারণেই এই বিশৃঙ্খল অবস্থার তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেছেন, বিক্ষোভ দমাতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে। গভর্নরের অনুরোধ ছাড়াই কোনো প্রেসিডেন্ট কর্তৃক ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নজিরবিহীন।
টানা দুই দিন বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ন্যাশনাল গার্ডের দুই হাজার সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলে সব জায়গা সৈন্য মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটে হেগসেথ বলেছেন, উত্তেজনা বাড়লে মেরিন সেনা ডাকা হতে পারে।
এর আগের দুই দিনও সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।









