খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই সারাদেশে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম।
আজ বুধবার র্যাবের আইন ও গণামাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, বড়দিন উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ চার্চ, গির্জা, উপাসনালয় ও অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক সুইপিং কার্যক্রম চালাচ্ছে। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় র্যাব স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডো টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মেট্রোপলিটন শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চার্চ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত টহল এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে চক্রান্তকারী ও উস্কানিদাতাদের বিষয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভার্চুয়াল জগতে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাহিনীটি।
এছাড়া বড়দিন উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে সিসিটিভি মনিটরিং, স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নারীদের ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি রোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
ঢাকা ও সারাদেশে অভিজাত হোটেল, ক্লাব, কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসহ বড়দিন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অশ্লীলতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বঙ্গভবন, গণভবন, সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআই এলাকায় বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি।
র্যাব জানিয়েছে, বড়দিন উপলক্ষে পটকা, আতশবাজি ও আগুন দ্বারা পরিচালিত ফানুস ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ বিষয়ে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাব সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম (হটলাইন: ০১৭৭৭৭২০০২৯) থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। বড়দিনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতার তথ্য পেলে দ্রুত র্যাবকে জানাতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
র্যাব আশা প্রকাশ করেছে, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বছরও সারাদেশে আনন্দ, শান্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে বড়দিন উদযাপিত।









