ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশে আসছে চলচ্চিত্র আন্দোলনকর্মী, শিক্ষক ও ‘মেঘমল্লার’ নির্মাতা জাহিদুর রহিম অঞ্জনের মরদেহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে আজিমপুর কবরস্থানে হবে তার দাফন।
পরিবারের বরাতে চ্যানেল আই অনলাইনকে এমন তথ্যই জানিয়েছেন চলচ্চিত্রকর্মী, নির্মাতা মুহম্মদ কাইউম।
তিনি জানান, বুধবার বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে অঞ্জনের মরদেহ নিয়ে আসা হবে। ঢাকায় পৌঁছুতে সন্ধ্যা হবে। বিমান বন্দর থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মোহাম্মদপুরের আল মারকাজুলে, সেখানে গোসল শেষে অঞ্জনকে নেয়া হবে তার ধানমন্ডির বাসায়।
বুধবার রাতে গুণী এই নির্মাতার মরদেহ রাখা হবে বারডেম এর হিমঘরে। বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ রাখা হবে কর্মস্থল স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সেখান থেকে বিসিটিআইসহ (বাংলাদেশ সিনেমা এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট) একাধিক জায়গায় নেয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বুধবার সন্ধ্যায় অঞ্জনের মরদেহ দেশে আসার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
মুহাম্মদ কাইউম বলেন, জানাজা কিংবা শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কোথায় রাখা হবে, এ বিষয়ে আগামিকাল অঞ্জনের মরদেহ দেশে নিয়ে আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে জাহিদুর রহিম অঞ্জনকে দাফনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান অঞ্জনের চলচ্চিত্র আন্দোলন যাত্রার এই সহকর্মী।
বহুদিন ধরেই লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন জাহিদুর রহিম অঞ্জন। বিগত কয়েক মাস ধরে ভারতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সবশেষ তিনি ভর্তি ছিলেন বেঙ্গালুরু স্পর্শ হাসপাতালে। গেল সপ্তাহেই তার লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুণী নির্মাতা।
কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘রেইনকোট’ গল্প অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘মেঘমল্লার’ নির্মাণ করেন অঞ্জন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পায় সিনেমাটি। এটি ছিলো তার প্রথম ফিচার ফিল্ম। প্রথম ছবির জন্যই তিনি ‘শ্রেষ্ঠ পরিচালক’ ও ‘শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
সরকারি অনুদানে সবশেষ তিনি নির্মাণ করেন ‘চাঁদের অমাবস্যা’। শুটিং সম্পন্ন করে গেল বছরেই সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও দেশের সার্বিক অবস্থা এবং নিজের অসুস্থতার কারণে মুক্তি দিতে পারেননি। তবে খুব শিগগির সিনেমাটি দর্শকদের সামনে নিয়ে আসতে আগ্রহী ছিলেন। প্রকাশ করেছিলেন সিনেমার পোস্টারও!
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলন কর্মী, শর্টফিল্ম ফোরামের সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র শিক্ষকের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক ও স্মৃতিচারণ করছেন চলচ্চিত্রের সহকর্মী থেকে অগনিত মানুষ। অঞ্জনের দাম্পত্য সঙ্গী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতার।









