গেল শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে রামপুরার একটি ভাড়া বাসা থেকে নব্বই দশকের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনি কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার প্রায় সপ্তাহখানেক পর অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে তাকে কবরে শায়িত করা হয়েছে।
দাফন নাকি সৎকার- সংগীতশিল্পী মনি কিশোরের মরদেহ নিয়ে ছিল জটিলতা। তবে জীবদ্দশায় মনি কিশোরের দেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাফনই হলো। ঢাকার বনশ্রীর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে জানাজা শেষে দক্ষিণ বনশ্রী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মিল্টন খন্দকার জানান, একমাত্র মেয়ে নিন্তি চৌধুরীকে গায়ক তার মৃত্যু পরবর্তী কাজগুলির বিষয়ে আগেই নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন। তার নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার দাফন হলো মনির।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে মনি কিশোর আগেই এ ব্যাপারে বলে জানিয়ে গিয়েছিলেন। মেয়ে পরীক্ষার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে আসতে না পারলেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে দাফন সম্পন্ন করার কাজটি করেছে বলে জানায় মিল্টন খন্দকার।
বিয়ের সময় মনি কিশোর সনাতন থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর অনেক বছর ধরে তিনি একাই থাকতেন। তবে মারা যাওয়ার পর মরদেহ কী করতে হবে, তা আগেই বলে গিয়েছিলেন একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে।
মেয়ের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলো পুলিশ, যেন পরে কোনো জটিলতা তৈরি না হয়। পরিবার থেকে এফিডেভিটসহ ধর্মান্তরিত হওয়ার কাগজ দেখানো হলে, পুলিশ তাকে দাফনের অনুমতি দেয়।
এদিকে গেল রবিবার থেকে চাউর হয়, ময়না তদন্ত শেষে ‘কী ছিলে আমার’ খ্যাত এই শিল্পীর মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে। সাধারণত বেওয়ারিশ লাশের দাফন বা সৎকার করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এমন বিষয় চাউর হলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরী হয় সংগীত অঙ্গন থেকে সাধারণ শ্রোতাদর্শক অনুরাগীদের মধ্যে।
সেসময় মনি কিশোরের ভগ্নিপতি নাট্যশিক্ষক বিপ্লব বালা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে কেন মরদেহ হস্তান্তর হবে? মনি কিশোর, উনার কি পরিবার নেই? এই খবর সত্যি নয়। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল এর হিমাগারে রাখা হয়েছে। দাফন নাকি সৎকার- এ নিয়ে তিনি তার মেয়েকে যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, সেভাবেই হবে।
পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন মনি কিশোর। ‘কী ছিলে আমার’, ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’, ‘মুখে বলো ভালোবাস ‘, ‘আমি মরে গেলে জানি তুমি’সহ তার গাওয়া আরো বহু গান শ্রোতাপ্রিয়তা পায়।









