রংপুরে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন তরুণ প্রযোজক মাসুদুল মাহমুদ রূহান। গত বুধবার রাতে পূর্ব রায়েরবাজার হাই স্কুলের পাশের একটি বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে পোস্টমর্টেম এর জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার রূহানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি। এসময় সঙ্গে ছিলেন তার বাবা।
তরুণ এই চলচ্চিত্রকর্মীর এমন মৃত্যুতে শোকার্ত শোবিজ অঙ্গনের মানুষ। তার মৃত্যু সংবাদ শেয়ার শেয়ার করে স্মৃতি আওড়াতে দেখা গেছে শোবিজের বহু সহকর্মীদের। ‘রূহান নেই, বিশ্বাস হচ্ছে না’- অন্য আরেক সহকর্মীর পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন চঞ্চল চৌধুরী।
এছাড়াও বিজরী বরকতউল্লাহ, শ্যামল মাওলা, শশী, চিত্রগ্রাহক বিদ্রোহী দীপনসহ বহু পরিচিত মুখেরা রূহানের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রূহানকে নিয়ে একাধিক পোস্ট করতেও দেখা গেছে তাদের। এছাড়াও তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীদের অনেকে শোক জানাচ্ছেন। চোখের জল ফেলছেন প্রিয় সহকর্মীর এমন মৃত্যুতে!
ছোটপর্দার জনপ্রিয় নির্মাতা ভিকি জাহেদের প্রায় সব প্রজেক্টেই নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন রূহান। সর্বশেষ ঈদে ওটিটি প্লাটফর্ম হইচইতে মুক্তি পাওয়া ‘রুমি’-তেও ভিকি জাহেদের সঙ্গী ছিলেন রূহান। তার আচমকা এমন মৃত্যু সংবাদে কিছুটা বিপর্যস্ত ভিকি।
গণমাধ্যমকে ভিকি জানিয়েছেন,“নিজের জীবনের সমস্যাগুলো কাউকে শেয়ার করত না রূহান। অনেক ভালো ছেলে ছিল। এতগুলো কাজ করলাম একসঙ্গে অথচ কিছুই জানতে পারলাম না, এটা রূহান কেন করল– এই প্রশ্ন সারাজীবন থেকে যাবে।”
‘রুমি’ সিরিজটির চিত্রগ্রাহক বিদ্রোহী দীপনের এক লেখায় উঠে এসেছে ঢাকা মেডিকেল থেকে রূহানকে শেষ বিদায় জানানোর অনুভূতি। এই চিত্রগ্রাহক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,“রুহানের শরীরটাকে বিদায় দিয়ে আসলাম! কিছু পরিচিত মানুষ আশেপাশে ঘিরে ছিলো, এতো এতো মানুষের মধ্যে তারাই হয়তো সব সময় থাকার মতো! অপেক্ষা করছিলাম, রূহানের বাবা কখন আসে! রূহানের মুখে ওর বাবার এতো গল্প শুনেছি একটা ইমেজ আগেই স্কেচ হয়ে ছিলো! বয়স্ক বাবা শরীরের ভারটা নিয়ে আস্তে আস্তে যখন রূহানের দিকে যাচ্ছিলো, কলিজায় কামড় দিচ্ছিলো! রূহানের একদম কাছে গিয়ে যখন বললো ‘আব্বু…’। আর ধরে রাখতে পারি নাই নিজেকে….আহারে জীবন!”
“রূহানের শরীরের পোস্ট মর্টেম শেষ, গোসল শেষ করে ফ্রিজার ভ্যানে উঠলো। বিদায় বলার বেলা, একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বাবা উঠে দাড়ালো। এবার তাহলে যাওয়া যাক। আর আটকাতে পারলাম না নিজেকে। এই হাড়ানোর ব্যথার মাঝেও বাবাকে জড়িয়ে ধরে এই কান্নার মুহূর্ত আমাকে কে যে কী শান্তি দিলো, আল্লাহর কসম এমন শান্তি আমি অনেক অনেক দিন পাই নাই! মিথ্যা আশ্বাস কিনা জানি না, আংকেলকে বললাম আমরা আসবো, ভুলে যাবো না! আমাদের ক্ষমা করবেন।”-বলছিলেন দীপন।
এদিকে রূহানের সর্বশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নিয়ে হচ্ছে আলোচনা। ৪ মে দেয়া এই পাব্লিক পোস্টটি অনেকে শেয়ারও করেছেন। কী আছে এই স্ট্যাটাসে? রূহান লিখেছেন,“আমার চেনা পৃথিবীর বুকে যেমন তুমি নাই, তোমার বুকেও আমি নাই! তাহলে কেন সেদিন বলেছিলে? আমার সাথেই এই জন্ম কাটিয়ে দেবে?ভুল বুঝিও না। আমি দোষ দিচ্ছি না। জাস্ট বললাম আর কি!”
অনেকে বলছেন, রূহানের দেয়া শেষ স্ট্যাটাসটিতেই লুকিয়ে আছে যতো অভিমান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আগেই জানিয়েছে, স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ এবং পারিবারিক বিভিন্ন কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন রূহান। তবুও বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।









