ইসরায়েলের হামলায় গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের কাছে নিহত পাঁচ আল-জাজিরার সাংবাদিকের মধ্যে একজন আনাস আল শরীফ। গাজার সত্য তুলে ধরতে গিয়ে যেকোন সময় নিজের মৃত্যুর কথা ভালোভাবে অনুধাবন করেছেন তিনি। যার ফলে, মৃত্যুর আগে এক ‘চূড়ান্ত বার্তা’ রেখে গেছেন আনাস।
সোমবার (১১ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে সেই বার্তার তথ্য। ধারণা করা হচ্ছে, আনাসের মৃত্যুর পর তার কোনো বন্ধু এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি আনাসের শেষ ইচ্ছা এবং বার্তা। তার এই লিখিত কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছালে বুঝতে হবে ‘ইসরায়েল তাকে হত্যা করতে সফল হয়েছে’।
বার্তায় আনাস বলেন, এটি আমার শেষ ইচ্ছা এবং আমার শেষ বার্তা। যদি আমার এই কথাগুলো তোমাদের কাছে পৌঁছায়, তাহলে জেনে রাখো যে ইসরায়েল আমাকে হত্যা করতে এবং আমার কণ্ঠস্বর বন্ধ করতে সফল হয়েছে। তোমাদের উপর শান্তি, রহমত এবং আল্লাহর আশীর্বাদ বর্ষিত হোক।
তিনি বলেন, যন্ত্রণার প্রতিটি ক্ষুদ্রতম রূপ অনুভব করেছি। বারবার দুঃখ ও ক্ষতির স্বাদ পেয়েছি। তবুও আমি কখনো দ্বিধা করিনি সত্য যেমন আছে, ঠিক তেমনই, বিন্দুমাত্র বিকৃতি বা ভ্রান্তি ছাড়াই তুলে ধরতে। আমার একমাত্র আশা ছিল, আল্লাহ যেন সাক্ষী থাকেন তাদের প্রতি, যারা নীরব থেকেছেন, যারা আমাদের হত্যাকে মেনে নিয়েছেন, আর যারা আমাদের শ্বাস পর্যন্ত রুদ্ধ করেছেন।
শরীফ লিখেছেন, আমাদের শিশু ও নারীদের ক্ষতবিক্ষত দেহও তাদের হৃদয়কে নড়াতে পারেনি, কিংবা দেড় বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের জনগণের ওপর চলা হত্যাযজ্ঞ থামাতে পারেনি।
২৮ বছর বয়সী আল জাজিরার এই সাংবাদিক আশা করেছিলেন যে তিনি অধিকৃত আশকেলনে (আল-মাজদাল) তার পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন। তবে তিনি এও বলেছিলেন যে ‘আল্লাহর ইচ্ছাই সর্বোচ্চ এবং তার বিচারই চূড়ান্ত’।
তিনি বলেন, শিকল যেন তোমাদের নীরব না করে, সীমান্ত যেন আটকে না রাখে। ভূমি ও মানুষের মুক্তির পথে সেতু হয়ে ওঠো, যতক্ষণ না আমাদের চুরি হওয়া মাতৃভূমিতে মর্যাদা ও স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়।
এসময় তার পরিবারের যত্ন নেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানিয়ে আনাস বলেন, স্ত্রী বায়ান, ছেলে সালাহ ও মেয়ে শামকে রেখে হয়তো তার চলে যেতে হতে পারে। ছেলে-মেয়ের বড় হওয়াটা হয়তো তিনি দেখে নাও যেতে পারেন। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
বার্তার শেষে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন, যদি আমি মারা যাই, আমি আমার নীতিতে অটল থেকে মৃত্যুবরণ করব। আল্লাহর সামনে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তার আদেশে সন্তুষ্ট, তার সাথে সাক্ষাতে বিশ্বস্ত এবং নিশ্চিত যে আল্লাহর কাছে যা আছে তা আরও ভালো এবং চিরস্থায়ী। তোমরা গাজাকে ভুলে যেও না।
হামলায় নিহত অন্য সংবাদকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন আল-জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ কুরেইকেহ ও ক্যামেরা অপারেটর ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নওফাল ও মোয়ামেন আলিওয়া।









