কর্মক্ষেত্র এফডিসিতে বহুবার এসেছেন। বেশ ক’বছর তাকে অভিনয়ে নিয়মিত দেখা না গেলেও শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক যে কোনো আয়োজনে তার উপস্থিতি থাকতো সরব।
বুধবার বিকেলেও তিনি এফডিসিতে আসেন। তবে একেবারে ভিন্ন চেহেরায়, ভিন্ন পরিস্থিতিতে এবং জীবনে শেষ বারের মতো!
হ্যাঁ। সোনালী দিনের বাংলা সিনেমার চিত্রতারকা জাভেদ শেষ বারের মতো এফডিসিতে গিয়েছিলেন বুধবার বিকেলে। সেখানে তার অপেক্ষায় ছিলেন সহকর্মীরা। এফডিসিতে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক আলমগীর, উজ্জ্বল, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরসহ অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী ও এফডিসির কর্মকর্তা কর্মচারিরা।
জাভেদের মরদেহ সামনে রেখে এসময় তার উদ্দেশ্যে শোক প্রকাশ করেন উপস্থিত সহকর্মী অভিনেতা অভিনেত্রীরা। পরে আসার নামাজের পর সেখানেই হয় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন এই তারকা। এরপর ৫টার দিকে তার মরদেহ এফডিসি থেকে রওনা হয় উত্তরার দিকে। সন্ধ্যায় উত্তরার ১২ নাম্বার সেক্টর কবরস্থানে দাফন করা হবে সত্তর আশির দশকের জনপ্রিয় এই চিত্রানায়ককে।
বুধবার সকাল ১১.১৫ মিনিটে উত্তরায় নিজ বাসায় মৃত্যু বরণ করেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস জাভেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮২ বছর।
১৯৬৪ সালে মুক্তি পাওয়া উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিষেক ইলিয়াস জাভেদের। এরপর প্রায় ২০০ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। নব্বই দশক পর্যন্ত তিনি সিনেমায় সুবর্ণ সময় কাটিয়েছেন।
এছাড়া তিনি ছিলেন একজন নৃত্য পরিচালকও। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটলেও পরবর্তিতে নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। তিনি তার অনেক কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত।
জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি স্বপরিবারে সেখান থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন।









