কিংবদন্তি বাউল সম্রাট লালনের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
ফারুকী জানান, বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে লালনের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পাচার্য এস এম সুলতানের জন্মদিনকেও ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় আরও উঠে এসেছে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের সাংস্কৃতিক আইকনদের বিষয়েও, যেমন হুমায়ূন আহমেদ ও বাংলাদেশের রক মিউজিকের কিংবদন্তি শিল্পীরা।
তিনি লেখেন, “লালনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সেলিব্রেট করার মধ্য দিয়ে আমরা রবীন্দ্র-নজরুলের বাইরেও তাকাতে শুরু করলাম। এটা কেবল শুরু। খুব শিগগিরই আমরা সমকালীন সাংস্কৃতিক আইকনদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করবো। ধরা যাক আইয়ুব বাচ্চুর কথাই— বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে তাঁর গান বাজেনি। তাঁর মতো সংগীতশিল্পী যে কোনো দেশের জন্যই গর্বের।”
পোস্টে তিনি লেখেন, কোনো দেশকে সাংস্কৃতিকভাবে দুর্বল করার জন্য প্রথমেই তার সংস্কৃতিকে ছোট করে দেখানো হয়। এভাবেই আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও সংগীতকে মূলধারার বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, লালনের গানকে দীর্ঘদিন ‘ফোক’ ট্যাগ দিয়ে সাব-কালচারে ফেলে রাখা হয়েছিল। একইভাবে রক মিউজিককেও ‘অপসংস্কৃতি’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
ফারুকী বলেন, রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আমাদের গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলোকে উদযাপন ও স্বীকৃতির বাইরে রেখেছে। তবে চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক মানে উঠে আসা সংস্কৃতিকে সেলিব্রেট করা। এতে জাতি আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ হয়, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সাংস্কৃতিক পরিচয় দৃঢ় হয়।
ফারুকীর মতে, সমকালীন সাংস্কৃতিক নায়কদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের প্রকৃত সাংস্কৃতিক শক্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।









