মুন্সিগঞ্জের চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুহিন দেওয়ান নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারীরা। এসময় বিপুল পরিমাণ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারপর ওই যুবকের মৃত্যু নিশ্চিত করে হত্যাকারীরা।
রোববার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তুহিন দেওয়ান (২২) মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ বেহেরকান্দি এলাকার ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি সেলিম দেওয়ানের ছেলে।
নিহতের মা লাকি আক্তার আর্তনাদ করতে করতে বলেন, সন্ধ্যার পরে নিজ গ্রামেই হাঁটাহাঁটি করতে বের হন তুহিন। এসময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে মুন্সিকান্দি স্কুল পার হয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারীরা তুহিনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। ঘটনাস্থলে পরপর অনেকগুলো ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে তুহিনের মৃত্যু নিশ্চিত করে যায় তারা। এলোপাথাড়ি গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের স্থানীয়রা তাকে রক্ষা করতে যেতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পূর্ব শত্রুতার জেরে গত কযেক মাস ধরেই তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল হত্যাকারীরা। বিগত কয়েক মাস এলাকা ছেড়ে লুকিয়ে থাকলেও এক রাজনৈতিক নেতার শেল্টারে এলাকতেই থাকতো তুহিন। জনৈক ওই নেতার শেল্টারের কারণে প্রতিপক্ষ আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তুহিনের পিঠে ও ঘাড়ে অনেক গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাকে মৃত অবস্থাতেই মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
রোববার রাত সাড়ে দশটার দিকে মাথা ও পিঠে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই যুবককে ২৫০ শয্যা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রান্ত সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ বলছে, তুহিনের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ তিনটি মামলা রয়েছে। কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে।








