পার্থ টেস্টে প্রথম ইনিংসে রাজত্ব করেছেন পেসাররা। ভারতকে অল্পরানে গুটিয়ে সুবিধা করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়াও। দ্বিতীয় ইনিংসে অজি বোলারদের নাস্তানাবুদ করে রানপাহাড় গড়েছে জাসপ্রীত বুমরাহর দল। বিরাট কোহলি ও যশস্বী জয়সওয়ালের সেঞ্চুরিতে ৫৩৪ রানের লক্ষ্যে দিয়েছে স্বাগতিকদের। শেষবিকেলে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে প্যাট কামিন্স বাহিনী।
পার্থে শুক্রবার টসে জিতে আগে ব্যাটে নেমে শুরুতে খেই হারায় ভারত। লোকেশ রাহুল-রিশভ পান্টের ব্যাটে ভর করে ৪৯.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানে থামে টিম ইন্ডিয়া। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫১.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১০৪ রানে থামে প্যাট কামিন্সের দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬ উইকেটে ৪৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। লক্ষ্যে নেমে ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপ নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ৫২২ রানে পিছিয়ে আছে স্বাগতিক দল।
কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৭২ রানে রোববার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ভারত। বোর্ডে ২৯ রান যোগ করে ২০১ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙে সাজঘরে ফেরেন লোকেশ রাহুল। ১৭৬ বলে ৭৭ রান আসে তার ব্যাটে। পরে বেশি সময় টিকে থাকতে পারেননি টপঅর্ডারের দেবদত্ত পাড্ডিকাল। জশ হ্যাজেলউডের বলে ২৫ রান করে আউট হন।
সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা জয়সওয়াল তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ২৯৭ বলে ১৬১ রান করা জয়সওয়ালকে ফেরান মিচেল স্টার্ক। ১৫ চার ও ৩ ছয়ে সজান তার ইনিংস। পরে রিশভ পান্ট ও ধ্রুব জুরেল ১ রান করে ফিরে গেলেও চাকা সচল রাখেন বিরাট কোহলি। ওয়াশিংটন সুন্দর (২৯) ও নীতীশ কুমার রেড্ডি (৩৮*) নিয়ে টেস্টে ৩০তম সেঞ্চুরি তুলে নেন মহাতারকা।
কোহলির সবশেষ তিনঅঙ্কটি ছিল ১৬ মাস আগে। ১৬ মাস পর, আগের সেঞ্চুরির পর ১৬তম ইনিংসে এসে আবারও শতকের দেখা পেলেন তিনি। মাঝের সময়টাতে ছিল কেবল দুটি ফিফটি, দুটিই ৭০-এর ঘরের ইনিংস। এই ষোলো ইনিংসে দুঅঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি ৬ বার, বিশের ঘর পার করতে পারেননি ৩ বার। গেল গেল রব উঠে গিয়েছিল। ফর্মহীনতা নিয়ে চলছিল কাটা-কাটা কথাবার্তা। সবকিছু দুর্দান্ত এক শতক দিয়ে উড়িয়ে দিলেন মাস্টার ব্যাটার। ৮ চার ও ২ ছয়ে ১৪৩ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন। কোহলি শতক ছুঁতেই ইনিংস ঘোষণা করে ভারত।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান লায়ন নেন দুই উইকেট। একটি করে উইকেট শিকার করেন স্টার্ক, হ্যাজেলউড, কামিন্স ও মার্শ।
শেষবিকেলে অস্ট্রেলিয়ার ঝুলি থেকে দুই পেসার বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ তুলে নেন ৩ উইকেট। বুমরাহর প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে নাথান ম্যাকসুইনিকে শূন্যরানে আউটের পর সিরাজ ফেরান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে। তিনি আউট হন ২ রানে। ৩ রান করা মার্নাস লাবুশেনকে দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন বুমরাহ। ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে দিনের খেলার শেষ করে অস্ট্রেলিয়া।









