গেল শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে রামপুরার একটি ভাড়া বাসা থেকে নব্বই দশকের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনি কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের অন্তত দু’তিন দিন আগেই এই শিল্পীর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। সে হিসেবে মৃত্যুর সপ্তাহ পার হতে চললো, কিন্তু এখনো শিল্পীর মরদেহ রাখা হয়েছে হিমঘরে!
না, মনি কিশোরের মরদেহের প্রাথমিক তদন্তে অস্বাভাবিক কোনো কিছুর হদিস পায়নি পুলিশ। বরং তার মরদেহ দাফন হবে, নাকি সৎকার- এ নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্ব থাকায় সময় নিচ্ছে পুলিশ।
বিয়ের সময় মনি কিশোর সনাতন থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর অনেক বছর ধরে তিনি একাই থাকতেন। তবে মারা যাওয়ার পর মরদেহ কী করতে হবে, তা বলে গিয়েছিলেন একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে। যিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন।
বাবার মরদেহ সৎকার হবে নাকি দাফন- এ সিদ্ধান্ত একমাত্র মেয়ে নিন্তির উপরই ন্যস্ত। মনি কিশোরের ভগ্নিপতি এবং ঘনিষ্ট একাধিক মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একমাত্র মেয়ে নিন্তি আমেরিকা থাকেন। তার এখন পরীক্ষা চলছে, সে কারণে এই মুহূর্তে দেশে আসা সম্ভব নয়। বাবার মরদেহ সৎকার হবে নাকি দাফন- তাই টেলিফোনেই এ নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও মেয়ে নিন্তির সাথে যোগাযোগ করা হয়। মনি কিশোরের শেষ বিদায় কার্য কী প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে, এ নিয়ে পুলিশকেও মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন নিন্তি। তবে পুলিশ তাকে আমেরিকার দূতাবাস মারফত লিখিত অনুমতিপত্র পাঠানোর পরামর্শ দেন বলে তখন জানা যায়।
এ বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দের সাথে কথা হয়। তিনি মনি কিশোরের মেয়ের সাথে পুলিশের যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চ্যানেল আই অনলাইনকে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মনি কিশোরের মেয়ে নিন্তি চৌধুরী আমেরিকায় থাকেন। তার সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ হয়েছে। তিনি আমাদের জানিয়েছেন আমেরিকা দূতাবাসে তিনি বাবার মরদেহের বিষয়ে সুষ্ঠু দাফন সম্পন্ন করার বিষয়ে ই-মেইল করেছেন। আমরা এখনো আমেরিকা দূতাবাসের কাছ থেকে ই-মেইলটি পাইনি। যা পেলেই মনি কিশোরের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে গেল রবিবার থেকে চাউর হয়, ময়না তদন্ত শেষে ‘কী ছিলে আমার’ খ্যাত এই শিল্পীর মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে। সাধারণত বেওয়ারিশ লাশের দাফন বা সৎকার করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এমন বিষয় চাউর হেলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরী হয় সংগীত অঙ্গন থেকে সাধারণ শ্রোতাদর্শক অনুরাগীদের মধ্যে।
সেসময় মনি কিশোরের ভগ্নিপতি নাট্যশিক্ষক বিপ্লব বালা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে কেন মরদেহ হস্তান্তর হবে? মনি কিশোর, উনার কি পরিবার নেই? এই খবর সত্যি নয়। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল এর হিমাগারে রাখা হয়েছে। দাফন নাকি সৎকার- এ নিয়ে তিনি তার মেয়েকে যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, সেভাবেই হবে।
পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন মনি কিশোর। ‘কী ছিলে আমার’, ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’, ‘মুখে বলো ভালোবাস ‘, ‘আমি মরে গেলে জানি তুমি’সহ তার গাওয়া আরো বহু গান শ্রোতাপ্রিয়তা পায়।









