মেয়েদের ফুটবলে কোচ পিটার বাটলার থাকলে অনুশীলন না করা এবং জাতীয় দল থেকে গণ অবসরের হুমকি দিয়েছিলেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা। সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন সাফজয়ীরা। রোববার বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। আপাতত বিদ্রোহ করা খেলোয়াড়রা ছুটিতে যাবেন এবং ফিরে এসে চুক্তিবদ্ধ হবেন বলেও জানান তিনি।
রোববার সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজা আক্তার জানান, ‘প্রথমে বাফুফের নারী উইংকে দোষারোপ করে কিছু মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার হচ্ছে সেগুলো পরিষ্কার করতে চাই। যখন থেকে কোচ এবং মেয়েদের সমস্যা চলছে তখন থেকে নারী উইং সেটা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের এক একজন করে, দলগতভাবে বোঝানো হচ্ছে, অনেকবার তাদের সাথে বসা হয়েছে। মেয়েদের সাথে কোচের কী সমস্যা সেটা তুলে ধরে এ কোচকে যেন নিয়োগ দেয়া না হয় সেটাও বাফুফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলেছি।’
‘সভাপতি ও আমার পক্ষ থেকে মেয়েদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম। ধারাবাহিকভাবে আমরা চেষ্টা করেছি সমস্যা সমাধানে এবং আজকেও তাদের সাথে বসেছিলাম আমি। বসার পরে আমি যেটা বলতে পারি, মেয়েরা ফিরবে, ট্রেনিংয়ে ফিরবে; কিন্তু এখন ফিরবে না। আমাদের ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যাবে ২৪ ফেব্রুয়ারি, যেহেতু আমরা আরব আমিরাতে যাব দুইটা ম্যাচ খেলার জন্য। দল চলে যাবে ২৪ তারিখে এবং ক্যাম্পও বন্ধ হয়ে যাবে ২৪ তারিখ।’
‘দল চলে যাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ফলে ক্যাম্প বন্ধ হবে। ক্যাম্প বন্ধ মানে সবার জন্য বন্ধ। সিনিয়র মেয়েরাও একটা ব্রেক চাচ্ছে, এই সুযোগে তারা একটা ব্রেক পাবে, এরপর ফিরে তারা অনুশীলন শুরু করবে। ওরা যখন অনুশীলন শুরু করবে, তার আগে আমরা যেটা করব, আমরা ও বাফুফের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ, সভাপতি, কোচ- সবার সাথে বসে তাদের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, সেটা মিটিয়ে দেওয়া হবে।’ অনুশীলনে ফেরা প্রসঙ্গে বলেন কিরণ।
ভুল বোঝাবুঝির অবসান প্রসঙ্গে কিরণ আরও বলেন, ‘তারা একসাথে অনুশীলন করবে, ক্যাম্পে থাকবে, যদি তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এবং অসন্তোষ থাকে, তাহলে তো কাজগুলো ঠিক ভালোভাবে হবে না। এজন্য দুই পক্ষের সাথে একসাথে বসে সেগুলো সমাধান করা হবে। মেয়েরা আমাকে বলেছে ফিরে এসে তারা অনুশীলন করবে, চুক্তি স্বাক্ষর করবে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। তারা বুঝতে পেরেছে যে, ভুল বোঝাবুঝি ছিল। সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসছে।’
‘আমি ১৮ জনের সাথে বসেছি। এটা ১৮ জনেরই মুখের কথা। একজনের কথা না। তাদের এটাও বলেছি, আমি প্রেস ব্রিফ করব, তখন ফেরার বিষয়টি অধিনায়ক এবং বাকি সবাই বলেছে আপনি সেটা বলে দিতে পারেন। এখানে কোনো শর্ত নাই, মেয়েরা (কোচ থাকলে ফিরব না) এমন কোনো শর্ত দেয়নি।’
‘আমি কোচের সাথে কোন কথা বলিনি, এ কারণে এটা নিয়ে বলতে পারব না। ছুটি শেষ করে ওরা যখন ক্যাম্পে ফিরে আসবে, তখন আমরা বসব। দুই পক্ষের সাথে আবার বসব, যার যা ভুল-ভ্রান্তি আছে, কথা বলে পারস্পরিক সম্মতিতে অনুশীলনে যাবে এবং চুক্তি করবে।’
খেলোয়াড়দের এমন ঘটনাকে বিদ্রোহ বলতে চান না কিরণ, ‘মেয়েদের এমন ঘটনাকে বিশৃঙ্খলা বলব না। ওরা এখনও বাচ্চা, ওরা যে খুব বড় তাও না, সবকিছু বুঝে তেমনও না। অনেক সময় আবেগপ্রবণ হয়ে অনেককিছু করে, এটাকে অন্যভাবে না নেয়া ভালো।’
পিটার বাটলারের অধীনে অনুশীলন বয়কট করেছিলেন মনিকা চাকমা, মাসুরা পারভীন, শামসুন্নাহার সিনিয়র, ঋতুপর্না চাকমা, মারিয়া মান্দা, রুপনা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, সানজিদা আক্তার, শিউলি আজিম, তহুরা খাতুন, নিলুফার ইয়াসমীন নীলা, সাগরিকা, কৃষ্ণা রানী সরকার, স্বর্না, নাসরিন, সাথী, মাতসুশিমা সুমাইয়া ও সাবিনা খাতুন।









