প্রায় পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) আঙিনা, আলো-অন্ধকার, ইট-কাঠ আর শিল্পকর্মের সঙ্গে একাকার হয়ে কাজ করেছেন সহকারী শিল্প নির্দেশক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। তার হাতে প্রাণ পেয়েছে অসংখ্য সিনেমার দৃশ্য, উজ্জ্বল হয়েছে বহু তারকার সোনালি মুহূর্ত।
কিন্তু দীর্ঘ পথচলার পর এবার সময় হলো বিদায়ের—এফডিসির কোলাহল ছেড়ে তিনি ফিরছেন আপন ভিটায়।
চলচ্চিত্রকর্মী হিসেবে জীবনের ৪৭ বছর উৎসর্গ করা এই শিল্প নির্দেশক বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে তার পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছেন সহকর্মী ও নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা।
মানবিক এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, ফিল্ম ক্লাব, চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি, ইয়ামিন হক ববি, চিত্রনায়ক জায়েদ খান, প্রযোজক-অভিনেতা মুন্না খানসহ আরও অনেকে।
চলচ্চিত্র সাংবাদিকরাও খোরশেদ আলমকে সম্মানের সঙ্গে বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই অংশ হিসেবেই বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে তার বিদায় সংবর্ধনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সাংবাদিক, শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
এই আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছেন চলচ্চিত্র সাংবাদিক মাজহার বাবু, আহমেদ তেপান্তর, রাহাত সাইফুল, রঞ্জু সরকার, এ এইচ মুরাদ, আসিফ আলম, রুহুল আমিন ভূঁইয়া, চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাহবুব ও সায়মন তারিক।
আয়োজন প্রসঙ্গে সাংবাদিক মাজহার বাবু বলেন, “খোরশেদ আলমকে বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগের কথা জানার পর চলচ্চিত্রকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমরা চেষ্টা করছি সম্মানের সঙ্গে তাকে বিদায় দিতে। আশা করি, শিল্পী ও কলাকুশলীরা শেষবারের মতো তাকে বিদায় জানাতে আসবেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়াবেন।”
উল্লেখ্য, এ ধরনের উদ্যোগ এর আগে একবার হয়েছিল। এফডিসির ঝালমুড়ি বিক্রেতা প্রয়াত আব্দুল মান্নান মোল্লাকেও সম্মানের সঙ্গে বিদায় দিয়েছিলেন একই দল। ১৯৭২ সাল থেকে তিনি চলচ্চিত্রপাড়ায় ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তিন দিনব্যাপী ‘মুড়ি উৎসব’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা জোগাড় করে তাকে সম্মান জানিয়ে বিদায় দিয়েছিলেন সাংবাদিকরা।









