লাখো মানুষের অংশগ্রহণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ২টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দল-মত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মহিলারাও বিশেষ ব্যবস্থায় জানাজায় অংশ নেন।
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
জানাজার সামনে রেখে ভোর থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ, শেরেবাংলা নগর ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দলে দলে এসে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। অনেকের হাতে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও ফুল দেখা যায়। শোকাবহ পরিবেশে জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
জানাজায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেককে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়।
খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি আজ ঢাকায় এসে শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে বুধবার সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়। সেনাবাহিনী হিউম্যান চেইন তৈরি করে রাষ্ট্রীয় প্রোটকলে মরদেহটি জানাজার স্থলে নিয়ে আসে।
এর আগে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি যাত্রা শুরু করে। তারও আগে সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহটি গুলশানে নেওয়া হয়। শুরুতে দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়ার কথা থাকলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মরদেহটি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত পরিবারের সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া এভিনিউসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেন। জানাজার সময় সাময়িকভাবে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পরও বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের রোগের কারণে তাঁকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।









