গত কয়েক দশকে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে ভারতীয় ক্রিকেটে। অর্থের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বিত্তশালী ক্রিকেট বোর্ড ও ব্যয়বহুল টুর্নামেন্ট আইপিএলের সুবাদে পাল্টে গেছে দেশটির ক্রিকেটের চেহারা। যার ছাপ পড়েছে খেলোয়াড়দের উপর। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ থেকে কাড়ি কাড়ি অর্থ আয়ে অহংকার বাড়ছে খেলোয়াড়দের। এমন মনে করছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক কপিল দেব।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বার্বাডোজে শনিবার রাতে ৬ উইকেটে হেরেছে ভারত। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা এখন। ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। ব্যাটিং বিপর্যয়ে এমন হারের পর ভারতের ক্রিকেট নিয়ে মন্তব্য করেছেন ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল।
প্রথমে ভারতীয় ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করলেও ক্রিকেটারদের ‘সর্বজ্ঞানী’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। বলেছেন, ভারতীয় ক্রিকেটাররা সিনিয়রদের থেকে পরামর্শ নেয়ার কোনো প্রয়োজনই মনে করেন না।
৬৪ বর্ষী কপিল বলেছেন, ‘মতের পার্থক্য হতেই পারে। তবে খেলোয়াড়দের একটি ভালো জিনিস হল, তারা খুব আত্মবিশ্বাসী। নেতিবাচক বিষয় হল, তারা মনে করে তারা সবকিছু জানে। জানি না কীভাবে এটাকে এরচেয়ে ভালো করে বলতে হয়। এই মনোভাব কীভাবে বদলানো যেতে পারে তা আমার জানা নেই। তবে ওরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।’
‘‘খুব বেশি অর্থ আসলে, অহংকারও আসে। এসব ক্রিকেটাররা মনে করে তারা সবকিছু জানে। এটাই পার্থক্য। আমার মতে অনেক ক্রিকেটার আছে যাদের সাহায্য প্রয়োজন। সুনীল গাভাস্কার রয়েছেন, ‘তার পরামর্শ কেন চায় না? এত কিসের ইগো?’ আসলে ওরা মনে করে, ‘ওরা যথেষ্ট ভালো।’ সেটা হতেই পারে। তবে ক্রিকেটে ৫০টি মৌসুম কাটানো কারও সাহায্য নিলে, তার পরামর্শ শুনলে তোমাদের ভাবনা চিন্তা বদলে যেতে পারে।’’
সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার অন্যতম সম্মানজনক এক নাম। তিনি সম্প্রতি আক্ষেপ নিয়েই বলেছেন, বর্তমান সময়ের ক্রিকেটাররা খুব কমই তার কাছে পরামর্শের জন্য আসে।
‘এরপরও কেউ আসেনি। রাহুল দ্রাবিড়, শচীন টেন্ডুলকার, ভিভিএস লক্ষ্মণ নিয়মিত আমার কাছে আসতেন। তারা নির্দিষ্ট কোনো একটি সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসতেন। এসব বিষয়ে আমার কোনো অহংকার নেই।’








