রাজনৈতিক জীবন মোটেও উপভোগ করছেন না বলে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ কঙ্গনা রানাউত। হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা আসন থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হলেও তিনি মনে করেন, জনসেবা তার জন্য নয়।
কারণ তিনি নিজেকে ‘স্বার্থপর’ ধরনের মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করেন, যিনি বিলাসবহুল জীবন উপভোগ করতে ভালোবাসেন। “আমি কখনও প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না”—এই কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে কঙ্গনা বলেন, তার জীবনের অগ্রাধিকার ভিন্ন।
আধ্যাত্মিক গুরু আত্মান ইন রবি (AIR)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, “আমি এখনো রাজনীতি পুরোপুরি রপ্ত করতে পারিনি। এটা একেবারেই আলাদা ধরনের কাজ, অনেকটা সামাজিক সেবার মতো। আমি কখনও মানুষের সেবা করার কথা ভাবিনি। নারীর অধিকারের পক্ষে লড়াই করেছি, কিন্তু সেটা একেবারে অন্য বিষয়…।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ যখন ভাঙা নালার সমস্যা নিয়ে আসে, আমি তখন ভাবি, আমি তো একজন এমপি। অথচ এরা আমার কাছে পঞ্চায়েতের সমস্যাও নিয়ে আসে। আমি বলি এটা তো রাজ্য সরকারের দায়িত্ব, ওরা বলে—‘আপনার টাকা আছে, আপনি দিন।’”
রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কঙ্গনা সোজাসাপ্টা জবাব দেন—“আমি প্রার্থনা করি যেন ঈশ্বর আমাকে প্রধানমন্ত্রী না বানান। আমি এই কাজের জন্য উপযুক্ত নই। আমার সেই আগ্রহ বা মনোভাব নেই। আমি একটি আত্মকেন্দ্রিক জীবন কাটিয়েছি—আমি বড় বাড়ি চাই, হীরা চাই, ভালো দেখতে চাই। এই ধরনের জীবন আমি বেছে নিয়েছি। তাই আমি এমন আত্মত্যাগী জীবন চাইও না, কাউকে উপদেশও দিই না।”
দলীয় শৃঙ্খলা না মানায় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে তিরস্কৃতও হয়েছেন কঙ্গনা। যেমন কৃষি আইন নিয়ে মন্তব্য করায় দলের সভাপতি জে.পি. নাড্ডা তাকে ফোন করেছিলেন। পরবর্তীতে কঙ্গনা তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন।
রাজনীতির মতো কঙ্গনার অভিনয়জীবনেও গত কয়েক বছরে সফলতা আসেনি। তার সর্বশেষ সিনেমা ‘ইমার্জেন্সি’, যেখানে তিনি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকায় অভিনয় করেন ও পরিচালনাও করেন। সেটি বক্স অফিসে মাত্র ২০ কোটি টাকা আয় করে। এর আগেও ধাকড় এবং তেজাস—এই দুটি ছবি বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্যর্থতার তালিকায় স্থান পায়। –ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস









