জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন জুলাই মাসে ঘোষিত অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণাপত্র এবং প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের সমালোচনা করে জানিয়েছে, এতে দেশের ইতিহাস ও বাস্তবতা পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ঘোষণাপত্রে আমরা যে পরিপূর্ণতার দাবি জানিয়েছিলাম, তার অনেক কিছুই উপেক্ষিত রয়েছে।
বুধবার ৬ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে জুলাই ঘোষণাপত্র ও প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ঘোষণাপত্রে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ (বিশেষত ৪৭(৩))-এর কোনো উল্লেখ নেই, যা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও মানবাধিকার ইস্যুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এর ফলে একটি বড় ঐতিহাসিক ও আইনি প্রেক্ষাপট এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
আখতার বলেন, সরকার শহীদ ও আহতদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে ব্যর্থ হয়েছে, যা এই ঘোষণাপত্রেও প্রতিফলিত। ১৯৭১ সালের শহীদদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে সরকার আজও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি। সেই অক্ষমতা এই ঘোষণাপত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা, জুডিসিয়াল কিলিং, আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন, মোদী বিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড পরবর্তী আন্দোলন ঘোষণাপত্রে উল্লেখ থাকলে ঘোষণাপত্র সমৃদ্ধ হতো।
তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের একটি নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে আসছি, গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান লেখার দাবি আমরা জানিয়ে এসেছি।
প্রসঙ্গত, জুলাই মাসে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সমঝোতার নানা দিক নিয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। এই ঘোষণাপত্রে জাতির বিভাজনের অতীত থেকে বের হয়ে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান জানানো হয়।









